দৈনিক ৬ কোটি ডিম উৎপাদনেও চাহিদা পূরণে ব্য/র্থতা, জানালেন ফরিদা আখতার

দেশে প্রতিদিন প্রায় ছয় কোটি ডিম উৎপাদন হলেও তা চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়, জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি পুষ্টি নিরাপত্তার গুরুত্বে বলেন, ‘বর্তমানে দেশে মাথাপিছু গড় মাংস খাওয়ার পরিমাণ মাত্র ২০০ গ্রাম। এখনও অনেক পরিবার আছে যারা সপ্তাহে বা মাসে একদিনই মাংস খেতে পারে।’
ফরিদা আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে। মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম আমাদের পুষ্টির মূল উৎস। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও নজর দিতে হবে।’
১৬ আগস্ট, শনিবার সকালে ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুলে নবনির্মিত ছয়তলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন এবং এসএসসি-২০২৫ সালের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘১৯৭১ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু তরুণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন। অনেকেই আজীবন অঙ্গপ্রতঙ্গ হয়ে গেছেন। তাদের ত্যাগ স্মরণ করে এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মানুষের অধিকার কখনো ক্ষুণ্ণ হবে না।’
তিনি বেগম রোকেয়ার শিক্ষা দর্শনের কথাও উল্লেখ করে বলেন, ‘মুসলিম মেয়েদের জন্য স্বাধীন পরিবেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন, যেখানে শুধু পড়াশোনা নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও চলত। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে দেশ ও জাতি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার দায়িত্ব পালন করবেন।’
নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্কুলের ভেতরে ও বাইরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের দায়িত্ব। ইভটিজিংয়ের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হবে এমন পরিস্থিতি নতুন বাংলাদেশে চলতে দেওয়া যাবে না।’
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিসপ্তাহ অন্তত একদিন স্কুল ও এলাকায় পরিবেশ রক্ষায় কার্যক্রম করতে হবে। পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমাতে হবে, কারণ এগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’
নারী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারী নির্যাতন আইন সম্পর্কে জানতে হবে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজকে একসাথে সচেতন হতে হবে।’



