বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

নাইজেরিয়া থেকে যুক্তরাজ্য, একটি নবজাতকের রহস্যময় আগমন

prothom alo

গত গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন এক নবজাতক কন্যাশিশু। প্রথমে খুব সাধারণ ঘটনা মনে হলেও এর পেছনে ছিল এক জটিল রহস্য।

বিবিসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে,‘ সুসান’ নামের ছদ্মনামে পরিচিত এই নারী মূলত নাইজেরিয়া থেকে একটি শিশুকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে এসেছেন, গর্ভধারণের ভুয়া গল্প সাজিয়ে। অভিযোগ উঠেছে শিশু পাচারের।

সুসান ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারে বসবাস করছিলেন তাঁর স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে। আফ্রিকায় যাওয়ার আগে তিনি তাঁর পারিবারিক চিকিৎসককে জানান যে, তিনি গর্ভবতী। তবে চিকিৎসা পরীক্ষায় সে তথ্যের কোনো সত্যতা মেলেনি। বরং চিকিৎসকেরা তাঁর দেহে টিউমারের মতো কিছু একটি শনাক্ত করেন এবং ক্যানসারের আশঙ্কাও করেন। কিন্তু চিকিৎসা নিতে তিনি রাজি হননি।

এক মাস পর নাইজেরিয়া থেকে ফিরে আসেন এক নবজাতক শিশুকে নিয়ে। বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিশু পাচারের অভিযোগে শুরু হয় তদন্ত।

ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির সঙ্গে সুসান ও তাঁর স্বামীর কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয় পরীক্ষার ফলও একই আসে। তিনি বলেন, ” নাইজেরিয়াতে আইভিএফ পদ্ধতিতে একজন দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভবতী হয়েছিলেন।” আইভিএফ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে নাইজেরিয়ার একটি ক্লিনিকের কিছু কাগজ, ছবি ও ভিডিও জমা দেন। তবে সেগুলোর কোনোটিতেই পরিচয় নিশ্চিত করার মতো কিছু ছিল না।

বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্যে সুসান বলেন, ‘ আমার সন্তানেরা কখনো স্ক্যানে ধরা পড়ে না।’ এমনকি দাবি করেন, তাঁর এক সন্তান ৩০ মাস গর্ভে ছিল।

শিশু পাচারের অজানা চক্র

এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন মামলা নয়। বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে শিশু পাচারের ঘটনা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের আনা হচ্ছে নাইজেরিয়ার তথাকথিত ‘বেবি ফ্যাক্টরি’ থেকে যেখানে টাকার বিনিময়ে শিশুর জন্ম ও পাচারের ব্যবস্থা করা হয়। যুক্তরাজ্যের সমাজকর্মী হেনরিয়েটা ককার বলেন, “ করোনার পর আমি অন্তত ১২টি এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এটা কেবল শুরু। শিশু বিনিময়ে টাকার লেনদেন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।” তিনি জানান, নাইজেরিয়ার কিছু ক্লিনিক এখন ‘প্যাকেজ’ দিচ্ছে যার মধ্যে রয়েছে শিশুর জন্মনিবন্ধন, চিকিৎসা, পাসপোর্ট, এমনকি বিদেশ ভ্রমণের আইনি কাগজপত্র। খরচ পড়ছে দুই হাজার থেকে আট হাজার পাউন্ড পর্যন্ত।

এই শিশুরা, যাদের পরিচয় নেই, কাগজপত্রে অনেক সময় মিথ্যা তথ্য থাকে তাদের পেছনে এক অপরাধচক্র কাজ করে চলেছে। যুক্তরাজ্যের সরকার বলছে, যারা ভুয়া পরিচয়ে শিশুদের অভিভাবক সাজে দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নারী