বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

ইরাকে প্রথম মহিলা রাজনৈতিক দলের অভ্যুদয়

dilli

আর পুরুষদের ছত্রছায়ায় নয়। সমাজে ও রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা নিজেই করে নেওয়ার লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ইরাকের মহিলারা। চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে চলা সংসদীয় নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করল ইরাকের প্রথম মহিলা-প্রধান রাজনৈতিক দল ‘ আল-মাওয়াদ্দা পার্টি ’ (Al-Mawadda Party)। শুধু ইরাকেই নয় গোটা আরব দুনিয়ার ইতিহাসে এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

‘ আল-মাওয়াদ্দা ’ যার অর্থ সহানুভূতি, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। এই দল গঠনের লক্ষ্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মহিলাদের একত্রিত করে তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করা। বহু বাধা-বিপত্তি ও রক্ষণশীলতার দেওয়াল ভেঙে দু’বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে অবশেষে সরকারি স্বীকৃতি পেল দলটি। ফলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বহুদিন ধরে অবহেলিত নারীকণ্ঠ এবার উঠে আসবে সিদ্ধান্তগ্রহণের মূল মঞ্চে।

দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক জিহান আল-তেই বলেন, “ ইরাকের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মহিলা হলেও সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা প্রায় অদৃশ্য। সেই কারণেই এই দল গঠন করা হয়েছে যাতে মহিলারা সমাজের অগ্রভাগে এসে দাঁড়াতে পারেন এবং নিজেরা নিজেদের হয়ে কথা বলতে পারেন।”

তবে দলের প্রচারের জন্য আলাদা কোনও উদ্যোগ নিতে হয়নি। বরং নিজেদের প্রয়োজন থেকেই মহিলারা যোগ দিয়েছেন ‘আল-মাওয়াদ্দা’-তে।
তবে ইরাকের আইন অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য পুরুষ হতে বাধ্যতামূলক। সেই হিসেব মেনেই পুরুষেরাও সদস্য হয়েছেন এই দলে। শুধু রাজধানী বাগদাদ নয় ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চল এমনকি কুর্দিস্তান থেকেও সদস্য হয়েছেন বহু মানুষ।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরাকের সংসদে পাশ হয়েছে একটি বিতর্কিত আইন যেখানে মাত্র ন’বছর বয়সি মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় নেতারা এমন বিয়েতে সম্মতি দিতে পারবেন। এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ইরাকের মহিলারা। তাঁদের অভিযোগ এর মাধ্যমে আসলে বাল্যবিবাহের মোড়কে শিশুদের ধর্ষণকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে ‘আল-মাওয়াদ্দা’ আগামী দিনে কতটা সক্রিয় হয় তা নজরে রাখছে।

নারী