বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

বিশ্বের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পেয়েছে মীম, চূড়ান্ত পছন্দ হেনড্রিক্স কলেজ

mim

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা বড়বাড়ির মেয়ে মুমতাহিনা করিম মীম বিশ্বের খ্যাতনামা ‘হেইস মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ অর্জন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হেনড্রিক্স কলেজে পড়াশোনার জন্য স্কলারশিপ লাভ করেছেন মীম। প্রতি বছর বিশ্বের চারজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয়, যার মধ্যে এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের একমাত্র নির্বাচিত শিক্ষার্থী মীম।

শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকেলে এ অসাধারণ অর্জনের জন্য সরফভাটা বড়বাড়ির পক্ষ থেকে মীমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সালাম, আরিফুল হাসান চৌধুরী মুরাদ, খালেদ হোসেন চৌধুরী রাসেল, নাজিম উদ্দীন চৌধুরী সুজা, করিম চৌধুরী, মো. রাহাত, মো. শিফু ও সোহেল রানা বক্তব্য রাখেন।

শুধু হেনড্রিক্স কলেজ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরও ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পেয়েছেন মীম। সব মিলিয়ে তার অর্জিত স্কলারশিপের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। তবে মীম হেনড্রিক্স কলেজেই কম্পিউটার সায়েন্স (ডুয়েল-ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রোগ্রামে স্নাতক সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

মীমের বাবা আব্দুল করিম চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী এবং মা ইয়াসমিন আকতার গৃহিণী। মীম চট্টগ্রাম নগরীর অংকুর সোসাইটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাপাসগোলা মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ছোটবেলায় একবার বাবা-মায়ের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের সময় থেকেই তার মনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন গাঁথা হয়েছিল।

ছাত্রজীবনে মীম নানা কাজে সক্রিয় ছিলেন। সপ্তম শ্রেণিতে নিজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন আর নবম শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠা করেন ৬৫ সদস্যের একটি প্রোগ্রামিং ক্লাব। এরপর জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেন একাধিক পুরস্কার। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় ঘরে বসেই তিনি একটি মিনি রোবটিক্স ল্যাব গড়ে তোলেন। নিজেই তৈরি করেন ‘কিবো’ নামের একটি রোবট যা খাবার পরিবেশন করতে সক্ষম। নিজের পথচলার বিষয়ে মীম বলেন, “ সহশিক্ষা কার্যক্রম আমার পরিচয়ের একটি বড় অংশ। ছোটবেলা থেকেই বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন, গান, প্রোগ্রামিং, বিজ্ঞান মেলা সব জায়গাতেই অংশ নিয়েছি। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর আজকের এই অর্জন। এতে মা-বাবা ও শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি।”

মীমের এই সাফল্য দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

নারী