বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

বাংলাদেশ থেকে বুসান, এক তরুণ রোবট নির্মাতার গল্প

poyaka

২০২৩ সালে বাংলাদেশের একটি আরডুইনো কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রোবটিক্সে যাত্রা শুরু হয়েছিল লামিয়ার। তখনও ভাবেনি এই পথ তাকে একদিন দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে নিয়ে যাবে আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে দেশের জন্য স্বর্ণপদক এনে দেবে। ২৬তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে চ্যালেঞ্জটা ছিল দারুণ। তাদেরকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি রোবট তৈরি করতে বলা হয়েছিল যা সমুদ্র সৈকতের ময়লা পরিষ্কার করবে, পর্যটকদের সেবা দেবে এবং দুর্যোগের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সময় স্বল্পতায় কাজটা সহজ ছিল না।

প্রথমে তিনি কয়েকটি রোবট বানায়। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে কিছু কারিগরি সমস্যার মুখে পড়ে। রোবটের মোটর সঠিকভাবে কাজ করছিল না, সার্কিটে কিছু সংযোগ ত্রুটি ছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য রেখে প্রতিটি সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান করেন। মোটর টেস্ট করেন, সার্কিট পুনঃসংযোগ করেন। ধীরে ধীরে রোবটগুলো প্রত্যাশিতভাবে কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে রোবটগুলোর কাজ তুলে ধরতে একটি দুই মিনিটের ভিডিও বানাতে হয়। ভিডিও এডিটিংয়ের সময়েও কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয় কিন্তু তারপরও ঠান্ডা মাথায় প্রতিটি বাধা মোকাবিলা করেন। ” সবশেষে যখন সমাপনী অনুষ্ঠানে তার নাম এবং বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হলো স্বর্ণপদকজয়ী হিসেবে তখন অনুভূতি ছিল এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত”, এমনটাই বলছিলেন লামিয়া।

তাঁর এই অর্জনের পেছনে অনেকে ছিলেন। বাবা-মা,বন্ধুরা ও দলনেতা ড. লাফিফা জামাল সবসময় দিকনির্দেশনা দেন। এই অলিম্পিয়াড শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয় আত্মবিশ্বাসও শিখিয়েছে লামিয়াকে। তিনি বলেন,” আমি বুঝেছি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। বাংলাদেশ দলের সদস্য হতে পারা, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বর্ণপদক অর্জন করা এ যেন এক অনরকম অনুভূতি। “