বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে প্রধান শিক্ষকের দ্বারস্থ হলো কড়ৈতলি স্কুলছাত্রী

নিজের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে প্রধান শিক্ষকের দ্বারস্থ হলো কড়ৈতলি স্কুলছাত্রী

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর জন্য সাহসের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছে।মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী তার স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য প্রধান শিক্ষক পংকজ শর্মার কাছে দরখাস্ত জমা দেয়।

২০১২ সালের ১৮ জুন জন্মগ্রহণ করেছে এবং বর্তমানে বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সেই শিক্ষার্থ।কিন্তু পরিবার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে ঠিক করেছে।এই বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাই সে প্রধান শিক্ষকের সাহায্য চেয়েছে যাতে তার শিক্ষা ও অধিকার রক্ষা পায়।

প্রধান শিক্ষক পংকজ শর্মা বলেন, “ ছাত্রীর দরখাস্ত আমি গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ”

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা সুমি বেগম বলেন, “ পারিবারিকভাবে মেয়ের যত্ন নেওয়া হয়েছে, তবে বিয়ের দিন এখনও নির্ধারণ হয়নি।আপাতত মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে না।আর যদি এমন কিছু হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে। ”

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, “ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানাতে পরামর্শ দিয়েছি। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে নিয়মিত। ”

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া জানান, “ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের প্রস্তুতির খবর পেয়ে তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আপাতত বিয়ের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিষয়টি আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি এবং প্রয়োজনে ওই ছাত্রীর পাশে দাঁড়াব। ”

এই ঘটনা শুধু এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত লড়াই নয় বরং দেশের শিশু ও কিশোরদের অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যেন সকল শিশু শৈশব ও শিক্ষার আলোতে বড় হতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

নারী