বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

জুলাইকে মানি মেকিং মেশিনে পরিণত করা হয়েছে: উমামা ফাতেমা

জুলাইকে মানি মেকিং মেশিনে পরিণত করা হয়েছে: উমামা ফাতেমা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ঘিরে গড়ে ওঠা আন্দোলন একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিণত হয়েছে অর্থ উপার্জনের যন্ত্রে। গতকাল রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার এক দীর্ঘ লাইভে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।

লাইভে তিনি বলেন, “জুলাই একটা বড় ধরনের অভিজ্ঞতা ছিল, কিন্তু এটি এখন একটি মানি মেকিং মেশিনে রূপ নিয়েছে।” তার অভিযোগ, আন্দোলনের আড়ালে চলছে টেন্ডার বাণিজ্য এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে প্রভাব খাটানোর প্রতিযোগিতা।

উমামা দাবি করেন, মুখপাত্র হওয়ার পরই তিনি দেখতে পান কীভাবে ‘আন্দোলনের পরিচয়’ ব্যবহার করে কেউ কেউ চাঁদাবাজি, জায়গা দখল এমনকি ডিসি-এসপি পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। “মনে হয়েছে যেন এটি একটি নিয়মিত পেশায় পরিণত হয়েছে” ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকেই ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়েন। “যে পরিচয় তারা একসময় লুকিয়ে রাখত, আজ সেটাই তারা ব্যবহার করছে আধিপত্য দেখাতে। যেন সমন্বয়ককারীদের একটি গোপন বাহিনী গড়ে উঠেছে।”

আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন উমামা। তিনি বলেন, “সব সিদ্ধান্ত হতো হেয়ার রোডের কিছু উপদেষ্টার কক্ষে। মাঠে যারা কাজ করত, তারা ছিল বিচ্ছিন্ন। মাসের পর মাস মানসিক চাপে থেকেছি। স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।”

বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অনিয়মের বিস্তার নিয়েও উমামা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। “চট্টগ্রামের ম কিছু তথ্য প্রকাশ পেলেই অনেকের মুখোশ খুলে যাবে,” বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

উমামা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফেব্রুয়ারিতে কিছু সদস্য আবার যোগাযোগ করলেও, পরে তাকে ‘প্ল্যাটফর্ম দখলের চেষ্টা’র মতো অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। বিষয়টিকে তিনি তার জীবনের ‘একটি ট্র্যাজিক অধ্যায়’ হিসেবে বলেন

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগও সরাসরি নাকচ করে উমামা বলেন, “অনেকে বলে আমি কোটি টাকা কামিয়েছি। তিনি আরও বলেন ,আমি সচ্ছল পরিবার থেকে এসেছি, আমার সিজিপিএ ভালো, বিদেশে যেতে স্কলারশিপ দরকার হয় না। আমি অর্থনৈতিক যন্ত্র না ,আমার পরিবার আমাকে একজন মানুষ হিসেবে দেখে।”

লাইভের এক পর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে উমামা বলেন, “যদি কারও ন্যূনতম আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই প্ল্যাটফর্মে টিকে থাকা কঠিন। আমি চাই, আর কেউ যেন আমার মতো এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে না যায়।”

স্পট লাইট