বাংলাদেশের নারী ও জীবনধারার ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
নারী

বাংলাদেশের “রাজনীতি কিংবা রাজনীতিবীদ” সবই এখন হাস্যকর হয়ে গেছে- সাদিয়া আয়মান

একটি জাতির হৃদয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে যখন তার শিশুরা নিরাপদ থাকে না। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ “মাইলস্টোন স্কুল বাস দুর্ঘটনা” কেবল কয়েকটি শিশুর প্রাণহান...

WhatsApp Image 2025-07-23 at 4.33.47 PM

একটি জাতির হৃদয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে যখন তার শিশুরা নিরাপদ থাকে না। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ “মাইলস্টোন স্কুল বাস দুর্ঘটনা” কেবল কয়েকটি শিশুর প্রাণহানিই নয়, বরং এদেশের ভঙ্গুর অবকাঠামো, অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক হীনমন্যতার নগ্ন প্রকাশ ঘটিয়েছে। এই ট্র্যাজেডিতে পুরো জাতি স্তব্ধ হয়ে যায়।

এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান তাঁর ব্যক্তিগত অনুভব ও অভিজ্ঞতা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন—যেখানে একদিকে ছিলো বুকচিরে যাওয়া শোক, অন্যদিকে প্রখর ক্ষোভ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার নগ্ন চিত্র। তাঁর সেই স্ট্যাটাস এখন মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন তুলেছে।

তিনি লেখেন, “গতকাল অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছা করছিল, লিখতে পারিনি। বাচ্চাগুলোর জন্য বুক ফেটে যাচ্ছিল। একেকটা বাচ্চার মিসিং পোস্ট দেখেছি আর দোয়া করেছি যেন ওরা বেঁচে ফিরে।”

তিনি জানান, তাঁর নিজেরও শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা আছে। টিউশন, কোচিংয়ের মাধ্যমে বহু শিশুর সাথে সময় কাটিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন শিশুদের নিষ্পাপ চরিত্র এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ।

“এত নিষ্পাপ, ফুলের মতো পবিত্র, পাখির মতো চঞ্চল ওরা! ইচ্ছা করে সারাদিন বুকের মধ্যে জড়িয়ে বসে থাকি। ভাবতাম, ওরা বড় না হলেই ভালো, এরকম নিষ্পাপ থাকুক আজীবন।”

শুধু আবেগ নয়, সাদিয়া আয়মান এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনের অব্যবস্থাপনা এবং রাজনীতির মুখোশও সরিয়ে দেন তাঁর লেখনীতে।

তিনি বলেন, “এই দেশের সিস্টেম কখনো ঠিক ছিল না, ঠিক হবেও না। রাজনীতির জন্য যে কেউ যা ইচ্ছা করতে পারে। এ দেশে সাধারণ মানুষের জীবনের দাম নেই, এ দেশে সাধারণ মানুষের কান্নার দাম নেই।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্ষমতাবানদের ‘শোডাউন’ এবং ভাড়াবৃদ্ধির মতো নির্দয় আচরণের বিরুদ্ধেও। তিনি জানান, “হাসপাতালে যখন একটার পর একটা রোগী আসছে পোড়া শরীর নিয়ে, তখন কোনো কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি যাচ্ছেন তাদের দলবল নিয়ে! কেন? সামনে ভোট তাই এখনই শো ডাউন করতে হবে!”
“রিকশাওয়ালা, সিএনজি ওয়ালারা ১০০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা চাইলো, দোকানদাররা পানির দাম ৫০ টাকার জায়গায় ২০০ টাকা চাইলো!”

নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এবং সরকারের পক্ষ থেকে “অর্থ সহায়তা চেয়ে পোস্ট” করার বিষয়টি নিয়েও সে প্রশ্ন তুলে থাকেন, যেটি পরে মুছে ফেলা হয়। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, “পরিবারগুলো তাদের নিখোঁজ সন্তানদের সন্ধান চায়, অর্থ চায় না। অর্থ দিয়ে যদি তাদের সন্তানদের খুঁজে এনে দিতে পারেন তবে আমরা আপনাদের তহবিলে অর্থ দিতে রাজি।”

সবশেষে সাদিয়া আয়মান রাজনীতির প্রতি গভীর বিতৃষ্ণা থেকে ব্যক্ত করেন, “বাংলাদেশের ‘রাজনীতি কিংবা রাজনীতিবীদ’ সবই এখন হাস্যকর হয়ে গেছে।”

সাদিয়া আয়মানের এই বক্তব্য কেবল একজন শিল্পীর হৃদয়ের ভাষা নয়, এটি যেন এক জনসাধারণের সম্মিলিত আর্তনাদ। তিনি শিশুদের জন্য বুক ভাসানো ভালোবাসা যেমন দেখিয়েছেন, তেমনি রাষ্ট্র ও শাসকের প্রতি একটি সচেতন সমাজের গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতো আরও অনেক কণ্ঠ উঠুক, প্রশ্ন করুক, যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্তত কিছুটা নিরাপদ হয়।