বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

অল্প বয়সীদের ক্যান্সারের প্রভাব বেশি দেখা দিচ্ছে

IMG_2794

কিছু রোগের নামই এমনই ভয়ানক যেটা শুনলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে এর মধ্যে ক্যানসার হলো একটি। ক্যানসার শব্দটি শুনলেই ভয় লাগে। কারণ এটি কোন বয়স মানে না। আগে ধরা হতো যে সাধারণত বয়স্কদের মধ্যেই ক্যানসার দেখা যেত। তবে ইদানীং কম বয়সীদের মধ্যেও ক্যানসার ধরা পড়ছে। আশেপাশে খোজ নিলেই দেখতে পাবেন এই ঘটনা, নতুন কোন কিছু নয়। ক্যানসারের সাথে লড়াই করা যায় এখন তবে তা খুবই কঠিন। ক্যানসার আক্রান্ত হওয়া কিংবা ক্যানসার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার গল্পগুলো অনেক সংগ্রামের। 

৫০ বছরের নিচে যাদের ক্যানসার ধরা পড়ছে, এই ক্যানসারকে বলা হয় প্রারম্ভিক ক্যানসার বা আর্লি-অনসেট ক্যানসার। এই ক্যানসারের হার দিন দিন  বেড়েই চলেছে। এবং এ ধরনের ক্যানসারগুলো সাধারণত বেশি আক্রমণাত্মক হয়। তবে আক্রমণাত্মকেরও চেয়ে ভয়ের বিষয় হয়ে দাড়ায় যে আমাদের দেশে আমরা সুস্থ থাকা অবস্থায় ক্যানসার স্ক্রিনিং করতে পারি না এবং এর প্রচলনো তেমন নেই বা খুব সামান্য পরিমাণে আছে। কীভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও আমাদের সচেতনতা নেই। 

অনেক গবেষকরাই বলেছেন যে তরুণদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একটি সম্ভাব্য কারণ হলো ক্যানসার বাড়ায় এমন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একটি কারণ হতে পারে। এর প্রধান কারণ আমাদের সচেতনতার অভাব। আমরা অনেকে হয়তবা জানি-ই না যে কোন খাদ্য ক্যানসার প্রদাহ সৃষ্টি করে থাকে। বেশিরভাগ গবেষকেরা মনে করেন, প্রারম্ভিক ক্যানসার সম্ভবত অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার/ফাস্ট ফুড ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারার সঙ্গে জড়িত।

আলাদা করে নির্দিষ্ট কারণগুলে বলা কঠিন। তবে কারণগুলো একটির সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক রয়েছে। যেমন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একটি, আরেকটি হলো দীর্ঘমেয়াদি অ্যালকোহল গ্রহণও ডিএনএতে ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি অলস জীবনযাপন এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্থূলতারও ভূমিকাও থাকতে পারে। প্লাস্টিক পণ্যের রাসায়নিকের সংস্পর্শ নিয়েও উদ্বেগ আছে। যদিও এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে শুধু শুধু ফাস্ট ফুড বা পরিবেশ দূষণ নয়, জেনেটিকস এবং কিছু সময় দুর্ভাগ্যও ক্যানসার আক্রান্তের পেছনে ভূমিকা রাখে। 

কম বয়সে ক্যানসারে আক্রান্তের বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতাকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ব্রিগহ্যাম অ্যান্ড উইমেন’স হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট ও মহামারিবিদ শুজি ওগিনো বলেছেন, 

‘দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক এক্সপোজার।’ মানে, আমরা এমন কিছুর সংস্পর্শে বারবার আসছি, যা আমাদের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। একবার দুবার নয়, এই এক্সপোজার চলছে বছরের পর বছর ধরে। তারই একটি গবেষণায় তিনি বলেন, সব পরের প্রজন্ম আগের প্রজন্মের চেয়ে কম বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকছে। এখনকার ৪০ বছর বয়সী কারও শিগগিরই ক্যানসার ধরা পড়ার আশঙ্কা তাঁর বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি।

Advertisements

আবার, ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয়তা নিয়েও গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক আছে। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন—গড় ঝুঁকির মানুষেরা ৪০ বছর বয়স থেকে স্তন ক্যানসার এবং ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের স্ক্রিনিং করানো শুরু করুন। কিন্তু বাস্তবে এই পরামর্শ মানেন এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। যা আমাদের দেশে এই সংখ্যা সামান্য।

ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই নানান অসুবিধায় পড়েন। কেউ কেউ খরচ নিয়ে চিন্তিত থাকেন। গবেষকেরা এখনো বিতর্ক করছেন, স্ক্রিনিং শুরু করার সর্বোত্তম বয়স কোনটি? কীভাবে পরীক্ষা আরও সহজলভ্য করা যায়, এ নিয়েও চলছে গবেষণা।

তবে এই ক্যানসার এড়ানোর সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে নিজ সচেতনতা। যা আমাদের অনেকের মধ্যেই নেই। নিজে সচেতন হন এবং অন্যকেও সচেতন করুন। কারণ ক্যানসার কোন সামান্য বিষয় নয়, কম বয়সে হলে আরও বেশি বিপদজনক।

Advertisements