ওয়াজ-মাহফিলে নারীদের নিয়ে কটাক্ষ, আলোচনায় মাওলানা মুফতি

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলে নারীদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে নারীদের কেবল স্বামী সেবা ও সন্তান জন্মদানের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে এমন বক্তব্য উঠে আসছে কিছু বক্তার কথায়। এসব বক্তব্যকে নারী প্রগতির বিরুদ্ধে মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখছেন নারী অধিকারকর্মীরা।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ফতুলা পাগলা বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত এক ওয়াজ-মাহফিলে মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম নারীদের নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাহফিলে তিনি দাবি করেন, নারীদের প্রধান দায়িত্ব স্বামীকে সেবা করা এবং সন্তান প্রসব করা। এ ছাড়া নারীরা অন্য কোনো কাজে যুক্ত হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি নারীদের পোশাক, চলাফেরা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে উপস্থিত অনেকেই জানান।
ওই মাহফিলে আরও বলা হয়, গর্ভবতী নারীদেরও ঘরের সব কাজ নিজেরাই করতে হবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, গর্ভবতী নারীরা শরীরে একটি শিশুকে বহন করেন, তাই তাদের ক্ষেত্রে ভারী কাজ বা অতিরিক্ত শারীরিক চাপ সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।
ডা. ফারজানা হুসেইন, কনসালট্যান্ট (অবস ও গাইনি), ইমপালস হাসপাতাল বলেন, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই এ সময় ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
শুধু তাই নয়, কিছু ওয়াজে নানা ধরনের কুসংস্কারও ছড়ানো হচ্ছে। গ্যাসের চুলায় রান্না করা নিয়েও আপত্তি তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পী, মডেল ও সংস্কৃতিজনদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করাও দেখা যাচ্ছে।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে নারী বিদ্বেষ উসকে দেয় এবং নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাদের মতে, ধর্মের নামে নারীদের ঘরে বন্দী করে রাখা বা নারীর মর্যাদাকে খাটো করা ইসলাম সমর্থন করে না।
নারী অধিকারকর্মী রোকেয়া কবীর বলেন, নারীর সমান অধিকারকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী অবস্থান নেওয়া। তিনি এ ধরনের বক্তব্য বন্ধে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে অনেক ইসলামি চিন্তাবিদও মনে করেন, ইসলাম নারীদের সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে এবং নিজের নিরাপত্তা ও সম্মান বজায় রেখে নারীরা সমাজের বিভিন্ন কাজে অংশ নিতে পারে। তাদের মতে, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো সমাজের জন্য ক্ষতিকর।



