Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভালোবাসায় রাঙাতে নারীর সম্মান রক্ষা জরুরি

সম্প্রতি মানব জাতি একটি কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। জীবনের দৌড়ে সবার মধ্যেই তীব্র প্রতিযোগিতা। সবাই চায় একে অন্যকে ছাপিয়ে যেতে। নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করতে গিয়ে মানুষ অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হারাতে বসেছে। তবে মানুষ সমাজিক জীব। ফলে একা কোনোভাবেই টিকে থাকতে পারে না। এজন্য পরস্পরের সহোযোগিতা প্রয়োজন হয়।

আর কিছু সম্পর্ক থাকে যেগুলো সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে মনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। মনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অকথ্য, অবাধ্য জীবনকেও শ্রেয় মনে হতে থাকে। তবে এই শ্রেয়তর জীবনের মাঝে যখন গাঢ় এবং সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি হয় তখন দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়। ভালোবাসা এবং ভালোলাগার বন্ধনে যুক্ত হয়। আর সামাজিক বন্ধনের ফলে স্বামী-স্ত্রী এক ছাদের নিচে বসবাস করতে শুরু করে। তবে সেই বসবাসের সূত্র ধরে জীবনের অনেক গোপনীয়তাও খোলসা হতে থাকে। তখন ভালোলাগা এবং ভালোবাসাকে যদি শক্ত বাঁধন দ্বারা জীবন্ত না রাখা যায় তবে সেই পবিত্র অনুভূতিও শিথিল হতে থাকে৷

বর্তমান সময়ে অনেক উদযাপনমূলক দিনের সৃষ্টি হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন নামকরণে মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করছে। যেমন: মাদারস ডে, ফাদারস ডে, প্রোপজ ডে, ব্রেকাপ ডে, ভ্যালেনটাইনস ডে, প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিবস প্রভৃতি অসংখ্য দিনকে কেন্দ্র বাঙালির মনেও এর আবেগ দেখা দিয়েছে। তবে এসব দিন উদযাপিত হলেও মানুষের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক কমে এসেছে। তাহলে কেনোই বা এত ডে’র সৃষ্টি!

মূলত কিছু দিন উদযাপনের মাধ্যমে সম্পর্ককে দৃঢ় করার উদ্দেশ থাকলে আদতে তা কতটা হচ্ছে! সময়ের পরিবর্তনে নারী-পুরুষের মধ্যে মন দেওয়া-নেওয়া অর্থাৎ প্রেমের সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং একে অপরের বিচার-বিবেচনায় কাছে আসছে। তবু দিনশেষে সেই প্রেম থেকে যখন পরিণয় ঘটছে তখন এই প্রেম মুখ থুবড়ে পড়ছে। চাওয়া-পাওয়ার মাপকাঠিতে কখনও কখনও স্বামী, স্ত্রীর বা উভয়ের চাহিদা এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে সম্পর্কগুলো ভেঙে যাচ্ছে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তলানিতে এসে ঠেকছে। আর মধ্যে দিয়ে দুজন মানুষের পথচলার ইতি ঘটছে।

ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশেই বিবাহ বিচ্ছেদের হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক জরিপে উঠে এসেছে, শুধু জয়পুরহাটে গত এক বছরে (২০২২) সালে ৫ হাজার ২৬০ টি বিবাহ নিবন্ধিত হয়েছিল বিপরীতে ৩ হাজার ৭৬৩ টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে।

জেলা রেজিস্ট্রার জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের মূল কারণই হচ্ছে যৌতুক। বিয়ের পর স্বামী চুক্তি মোতাবেক যৌতুক পাচ্ছেন না। এরপরই বিবাহ বিচ্ছেদ শুরু হয়। এছাড়া কারণ হিসেবে মাদকাসক্ত, বাল্যবিবাহ, দীর্ঘদিন স্বামী প্রবাসে থাকা, শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, মোট বিচ্ছেদের মধ্যে স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক হয়েছে ৭৭৩টি, স্বামী-স্ত্রী উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে তালাকের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৯২টি আর স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৭১টি। এই দীর্ঘ জরিপ সূত্রে আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যে, এর অধিকাংশ বিয়েই পাত্র-পাত্রীর প্রেম ঘটিত। ফলে এই জরিপ মোতাবেক প্রশ্ন থেকেই যায়, তবে ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কেনো এত বৈপরীত্য দেখা দিলো? কেনোই বা প্রেম নামক আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে ব্যক্তিক হিংসা-আক্রমণ -আক্রোশের সূত্রপাত! তবে এই এত এত দিন উদযাপনের মাহাত্ম্য কোথায়! আর কোথায় সঠিকতার চর্চাই বা কেনো হচ্ছে না এ সমাজে?

নারী-পুরুষের মধ্যে ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ব টিকে আছে। তবে সেই ভালোবাসা-আবেগ-অনুভূতির জোয়ারেও ভাটা সৃষ্টি হয়। যেই ভাটা কখনোবা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, শুষ্ক মরুভূমিতে তখন আর কোনোই আবেগ কাজ করে না। বিপরীতমুখী সম্পর্কের জেরে একে অপরের প্রতি তাই কখনও কখনও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠে। যার ফলস্বরূপ প্রেম, দাম্পত্য সংকটের জেরে সমাজে গুম, খুন, ধর্ষণ, আত্মহত্যার মতো ঘটনাগুলো বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রেম বা বিয়ের সম্পর্ক যাইহোক না কেনো নারী-পুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা গড়ে তোলা খুবই জরুরি। নারীকে ভালোবাসায় আগলে রাখতে হলে প্রথমত নারীকে সম্মান-শ্রদ্ধা করতে হবে। শুধু লোক সমাজের কথা ভেবে নারীরা যে, আর গঞ্জনা ভোগ করে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে এমন নয়। বরং নারীরাও প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। নিজের স্বাধীন জীবনযাপনকে প্রাধান্য দিতে শিখেছে। ফলে সুখী জীবন গড়তে সে প্রেম হোক বা দাম্পত্য নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি। হৃদয়ের শুদ্ধ অনুভূতিকে প্রধান্য দিতে হবে। ভালোবাসার প্লাবনে সব হিংস্রতা দূর হয়ে যাক। নারীর প্রতি নিখাদ সম্মান-শ্রদ্ধাবনত হোক পৃথিবী।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ