Skip to content

১১ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শীতে ছিন্নমূল নারীদের প্রতি নজর দিন

কয়েকদিন যাবৎ তীব্র শীতে জনজীবন বিধ্বস্ত। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে শীতের মাত্রা সর্বনিম্ন অবস্থায়। গত কয়েক বছরের চেয়ে এই বছর সবস্থানে শীতের প্রকোপ প্রচণ্ড বেশি। বিত্তবান, মধ্যবিত্ত মানুষ শীত নিবারণের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করতে পারলেও আমাদের সমাজের একাংশ হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ। মৌলিক চাহিদার জোগান দেওয়া তাদের জন্য বেশিরভাগ সময়ই অসম্ভব। এসব ছিন্নমূল মানুষের অধিকাংশ ফুটপাতের বাসিন্দা। গরমের সময় তারা কোনো রকমে ফুটপাতে জীবন অতিবাহিত করলেও শীতে তাদের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পথচারী কমতে থাকে এবং আয়োজন চলে উষ্ণতার ছোঁয়ায় ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতে। যাদের এই প্রচণ্ড শীতকে বশে আনার জন্য যথেষ্ট গরম কাপড় আছে তাদের অধিকাংশই খোঁজ রাখেন না এসব ছিন্নমূলের! প্রচণ্ড শীতের রাতে শহরের মানুষ যখন ঘুমে বিভোর তখন ছিন্নমূল মানুষ স্রষ্টার কাছে আকুতি জানায় এই দীর্ঘ রজনী যেন দ্রুত শেষ হয়। সর্বোচ্চ একটি পাতলা কম্বলে পরিবারের সবার শীত নিবারণ প্রায় অসম্ভব। অনেকের ভাগ্যে এই একটি কম্বলও জোটে না। তাই শীতের সময়টা ছিন্নমূল মানুষের জীবন কাটে সবচেয়ে দুর্বিষহভাবে!

তবে শীতের এই সময়টা ছিন্নমূল নারীদের জীবন কাটে আরও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে। কারণ পরিবারের সবার দিকে নজর দিতে গিয়ে তারা আরও মানবেতর জীবনযাপন করে। এক টুকরো কাপড় পেলে সেটুকু দিয়ে কোলের শিশুটিকে জড়িয়ে রাখে। যেন সন্তানের বা পরিবারে ভালোবাসার মানুষটি একটু কষ্ট কম পায়। শীতের মৌসুমে ছিন্নমূল নারীদের জীবন দুর্বিষহভাবেই কাটে। একে তো যথেষ্ট কাপড়ের যোগান নেই, শীত নিবারণের গরম কাপড় নেই তার ওপর মাথার ছাদও নেই। খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ রজনী দাঁত কামড়ে পড়ে থাকতে হয় এসব অসহায় মানুষদের। আর এমন মানবেতর জীবনযাপনকারী মানুষদের সুরক্ষায় নেই কোনো সঠিক উদ্যোগ।

যদি আমাদের সমাজের বিত্তবান শ্রেণি ও সরকারি উদ্যোগে সমানভাবে এই মহত্তম কাজে অংশগ্রহণ করেন, তবে এসব হতভাগ্য নারীর কিছুটা হলেও শীতের কষ্ট কমবে।

বিত্তবানদের শুধু শীত নিবারণের উদ্দেশ্য থাকে না সেইসঙ্গে তাদের মাথায় কাজ করে ফ্যাশান সেন্স। কিভাবে নিজেদের উপস্থাপন করলে শীতের মৌসুমেও আকর্ষণীয়, সুন্দর লাগবে! অন্যদিকে এসব হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষদের বিশেষশত নারীদের সামন্য শীত নিবারণের নূন্যতম কাপড়টুকুও থাকে না। কখনো কখনো বিত্তবান ব্যক্তি, সমাজের প্রতিনিধিবর্গ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রভৃতির ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা কোনো সংগঠন মারফত ছিন্নমূলদের কাছে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়। তবে তা ছিন্নমূল মানুষের তুলনায় যথেষ্ট নয়। একইসঙ্গে তা অতি নিম্নানের। কেউ কেউ যদিবা কোনো রকমে একটি কম্বলের জোগাড় করতে পারে, তবে তা দিয়ে এই শীতে তাদের খুব একটা শীতকে বশে আনা সম্ভব হয় না।

এছাড়া সবজায়গায় এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ গৃহীত হয়ও না। সবমিলিয়ে ছিন্নমূল পুরুষদের তুলনায় নারীরা আরও বঞ্চিত হয় বেশি। কারণ পুরুষেরা যতটা অন্যের কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াতে পারে, নারীরা ততটা পারে না। সেক্ষেত্রে এই শীতে ছিন্নমূল নারীদের প্রতি নজর দেওয়া জরুরি। আর এসব মানুষদের সাহায্যের জন্য বিত্তবান শ্রেণি ও সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি।

তীব্র শীতে ছিন্নমূল নারীদের প্রতি নজর দিতে হবে। তাদের দুর্ভাগ্যের রজনীগুলোকে কিভাবে একটু শিথিল করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। যদি আমাদের সমাজের বিত্তবান শ্রেণি ও সরকারি উদ্যোগে সমানভাবে এই মহত্তম কাজে অংশগ্রহণ করেন, তবে এসব হতভাগ্য নারীর কিছুটা হলেও শীতের কষ্ট কমবে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও একাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। সেলক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ নাগরিক সবার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত হলে ছিন্নমূল নারীদের এই দুর্দিন কিছুটা হলেও কমে আসবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ