Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারীবাদের অনন্য উদাহরণের গল্প এনোলা হোমস

বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমস কে আমরা কে না চিনি। শার্লক হোমস হলেন একজন তুখোড় এবং অসম্ভব বুদ্ধিমান গোয়েন্দা৷ বিভিন্ন জটিল কেইস সলভ করাই তার নেশা। শুধু তাই ই নয় জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায়ও শার্লক হোমস ছিলেন অনন্য।

শার্লক হোমসের সহদর মাইক্রফটের নাম ও শার্লক হোমসে অনেক পাওয়া গেছে৷ তিনিও ছিলেন অসম্ভব বুদ্ধিমান। কিন্তু শার্লক হোমসের একজন বোন ও ছিলেন নাম এনোলা হোমস। জিনগত বৈশিষ্ট্যেই শার্ল্ক হোমসের তিন ভাইবোনই ছিলেন অসম্ভব মেধাবী। কিন্তু সে সময়ে নারীদের শিক্ষার পরিসর ছিলো খুবই সীমিত। নারীদের জন্য যে স্কুল ছিলো সে স্কুলে নারীদের শেখানো হতো, কিভাবে একজন আদর্শ স্ত্রী এবং কন্যা হয়ে ওঠা যায়৷ কিন্তু এনোলা হোমসের মা অর্থাৎ শার্লক হোমসের মা তার কন্যা এনোলা হোমসকে সেই সব স্কুলে পাঠাননি।

তিনি তার কন্যাকে ঘরের ভেতরেই বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন, গণিত এবং আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় নিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন৷ শুধু তাই না আত্মরক্ষা কৌশল এবং দাবা খেলায়ও তিনি নিজ কন্যাকে সুদক্ষ হিসাবে তৈরি করেছেন। কারণ তিনি চাইতেন তার কন্যা যেন বড় হয়ে সমস্ত অন্যায়ের মোকাবেলা করতে সক্ষম হয় এবং নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবে বেঁচে থাকতে পারে। ফানফ্যাক্ট এনোলা নামের অক্ষর গুলো উল্টে দিলে হয় এলোন।

তারমানে এনোলা হোমসের মা তার মেয়ে এনোলা হোমসের যখন ১৬ বছর বয়স তখন তার মা হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যান। সে সময় এনোলা হোমস বিশাল বড় বাড়িতে একাই হয়ে যায়। সেজন্য তার দুই ভাই, শার্লক এবং মাইক্রোফট আসে এনোলা হোমসের কাছে। কিন্তু এসে দুজনই কিছুটা হতচকিত হয়ে যায়। কারণ এনোলা হোমস সে সময়ের নারীদের মত ধীরে চলা, সুন্দর করে চুল বেধে রাখা এবং পোশাক আশাকও তেমন সে সময়কার উচ্চাভিলাষী নম্র নারীদের মত ছিলো ছিলো না। তাই দুজনেই সিদ্ধান্ত নেয় এনোলা কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। যেহেতু তাদের মা ঘর থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে গেছেন তাই এনোলার সমস্ত দায়িত্ব চলে আসে তার ভাইদের উপর।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শেখানো হতো, নারীদের কিভাবে চামচ ধরতে হবে? কি করলে পুরুষেরা তাকে ভালো হিসেবে সার্টিফিকেট দিবে এই শিক্ষা দেয়া। কিন্তু এনোলা এইসব স্কুলে যেতে চাইলো না। সে তার মাকে খুঁজে বের করার জন্য উঠে পরে লাগলো। এবং সে বুঝতে পারলো এই স্কুলে ভর্তি হলে তার আর তার মা কে খুঁজে বের করার অবকাশ সে পাবে না। কাজেই এনোলা হোমস ঘর থেকে পালিয়ে যায় এবং সে তার মা কে খুঁজে বের করার জন্য নিউ ইয়র্কে যায়।

যদিও এই সন্ধান প্রক্রিয়ার মধ্যেও এনোলা হোমস কে জোর করে নিয়ে আসা হয় এবং ঘরে বন্দী করে রাখার চেষ্টা করা হয়৷ কিন্তু তেমন কোনো লাভ হয়নি। নানা বাধা বিপত্তি শেষে তিনি তার মাকে খুঁজে বার করেন এবং তিনি জানতে পারেন, তার মা তৎকালীন সময় নারীদের ভোটে অংশগ্রহণ করার জন্য আন্দোলনের সাথে যুক্ত। এবং নারীরাও যেনো ভবিষ্যতে ভোট দেয়ার অধিকার পায়, ভোটে অংশগ্রহণ করার অধিকার নিশ্চিত করতে পারে সেই বিষয় নিয়ে এনোলা হোমসের মা কাজ করেন। এজন্যই তিনি ঘর থেকে বেড়িয়েছিলেন।

এনোলা একরাশ অভিমান এবং রাগ নিয়ে তার মাকে খুঁজে বের করলেও যখন তার মা আর মেয়ে মুখোমুখি হয় তখন এনোলা হোমসের মা এনোলা হোমস কে বলেছিলেন, আমি এই সব কিছু তোমার জন্য করে যাচ্ছি। তুমি যেনো বড় হয়ে নারী হিসেবে সমান অধিকার পাও এবং তোমার স্বপ্ন পূরণে তুমি যেনো সব সময় সাহসী থাকতে পারো।

এনোলা হোমসকে তার মা শিখিয়েছিলেন, নিজের পরিচয়কে খুঁজে বের করতে। এনোলা হোমস তার মা কে খুঁজতে বের হয়ে তিনটি কেইস মিমাংসা করেন৷ একজন রাজপুত্রকে হত্যার হাত থেকে রক্ষা করেন৷ মা কে খুঁজে বের করেন এবং প্রতিষ্ঠানে নিজের বন্দী জীবনকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজের পরিচয় নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন।

সিনেমার শেষে এনোলা হোমস বলেন, তিনি একজন গোয়েন্দা এবং তিনি সফল ভাব নিজের পরিচয় নিজে খুঁজে পেয়েছেন। অবাধ্য হোক কিংবা ডানপিটে হোক নারীকে সব জায়গায় জায়গা করে নিতে হবে। অবাধ্য আর ডানপিটে হওয়াটা কোনো খারাপ কিছু না। নিজের জন্য যদি বিপ্লবী হতে হয় তাহলে বিপ্লবী হওয়াই ভালো।

এনোলা হোমস চরিত্রটি ন্যান্সি স্প্রিংগার লিখেছেন। “এনোলা হোমস মিস্ট্রিজ” নামে সিরিজ আকারে বইটি প্রকাশিত হয়। মোট সাতটি বই আছে এখানে। ২০০৬-২০২১ পর্যন্ত এই বই প্রকাশিত হয়। ২০২০সালে এই বই এবং এনোলা হোমস নামে চরিত্রটির সিনেমা তৈরি করা হয়। এই গল্পটি নিয়ো- ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের ধারায় অন্তর্ভুক্ত। এইজন্যই সিনেমায় পোশাক ভিক্টোরিয়ান আমলের ছিলো। আর লেখক সেই মূল চরিত্রের মাধ্যমে নারী জাগরণের বার্তা দেন।

অনন্যা/জেএজে