Skip to content

১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিজের অধিকার নিজে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে নারীর স্বাধীনতাই আসবে না

নারীদের নিজের অধিকার নিয়ে সচেতন যদি হতে হয়, তাহলে তাকে রাজনীতিতে অংশ গ্রহণ করতে হবে। নারী যদি নিজেকে অর্থনৈতিক-ভাবে সাবলম্বী করতে চায়, তাহলে তাকে রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করতে হবে। নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা মানে এই না যে, তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো দলকে বেছে নিতে হবে। রাজনীতিতে অংশগ্রহণ মানে হলো, সে কোন দেশে থাকে, সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে। সে যে প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত, সেখানের  আয়ের উৎস কী। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা কী-রূপে আছে ইত্যাদি।  

 

এ-ছাড়া, নারীদের ভূমি অধিকার কতটুকু।  নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার কতটুকু এবং নারীদের কেন্দ্র করে ধর্ম এবং সমাজের অবস্থান কোথায়, এ-সব বিষয় নিয়ে ধারণা করলে নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া সম্ভব। মোট কথা, নারীকে তার পারিপার্শিকতা নিয়ে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। 

 

একজন মানুষ যখন আরেকজন মানুষের অবস্থার কথা চিন্তা করে সেখানে সহমর্মিতা দেখাতে পারে, তখনি সেই মানুষ নিজের অবস্থান নিয়ে সোচ্চার হতে সক্ষম হয়। আবার বিপরীতে নিজেকে নিয়ে সোচ্চার না হোলে, সে অন্যের অধিকার নিয়েও কোন কাজ করতে পারবে না।

 

অতএব, নারীকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। এবং বিশ্বব্যাপী সংবাদ এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে নারীকে জানতে হবে। তাহলেই এই চার দেয়ালে ঘেরা বন্দী-জীবন থাকার পরও তার জন্য পুরো পৃথিবীর দ্বার থাকবে খোলা। কেননা নারীকে এই সব অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলি থেকে দূর করে রাখাটা একপ্রকার চতুরতার আভাস দেয়।

 

নারীরা রাজনীতি ছাড়াও টেকনোলজিতে পিছিয়ে আছে।কারণ, এই সমাজ তাকে মাথায় স্বর্ণলতা দিয়ে খোদাই করে রেখেছে যে, নারী মানে কেবল সাজসজ্জা আর নাটুকে ভঙ্গিতেই কথা বলবে। এর বাইরে কোনো কিছু নিয়ে তার মাথাব্যথা থাকার প্রয়োজন নেই। আর যে নারী এর বাইরেও কোনো কথা বলতে চায়, তারা বিপথে যাওয়া নারী।  

 

এই জন্য নারীরা নিজেরাও নিজেদের অনেক দিক থেকে অবদমন করে। যত নারী আছে, যারা রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এসেছে, তাদেরকে উগ্রপন্থীরা হয় হত্যার হুমকি দিয়েছে, নয় তো ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে। যেন প্রচলিত ভোগ্যপণ্য বা ক্রীতদাসীর এত সাহস কি করে হয় যে, তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে চায়! 

 

তবে যত যা-ই হোক, নারীদের রাজনীতিতে উপস্থিতিও এমন অনেক উগ্রবাদী মানুষের পাঁজর কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।তাই যা নয়, তা-ই হোক, নারীকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে প্রতিটি খাতে।বলুক লোকে মন্দ কথা, আসুক যত বিপদ। নিজের অধিকার নিজে প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে নারীর কখনো স্বাধীনতাই আসবে না।কারণ, মনে রেখো নারী, স্বাধীনতা কেউ দেয় না, অর্জন করে নিতে হয়।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ