Skip to content

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অগ্রাধিকার কেবল নারীরই

নারী-জীবনের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায় তার 'গর্ভধারণ' এবং 'মা' হওয়া । কিছু কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণ আকস্মিকভাবে হলেও, আজকাল এর সংখ্যাটা অনেকটাই কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনেকে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন মা হওয়ার।  কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই সিদ্ধান্ত আসলে কার নেয়া উচিত এবং কে নিচ্ছে?

আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই চিত্রটি অনেকটা করুণ। মা হওয়ার সিদ্ধান্তে যে মানুষটির ওপর সব চেয়ে বেশি শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পরে, দিন শেষে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেই মানুষটি সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নিতে পারে না। বিয়ের পর থেকেই প্রায় প্রত্যেক নারীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন করা হয়, 'কবে মা হচ্ছো?' 

সন্তান জন্মদান প্রত্যেক নারীর জন্যই এক বিশেষ আনন্দের অনুভূতি। তবে সেই আনন্দ ঠিক তখনই উপভোগ্য হয়, যখন সেই সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় নেয়া হয়। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কিছু নিয়ম-কানুনের যাঁতাকলে পরে প্রায়ই নারীরা একপ্রকার বাধ্যই হয় মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে। ধরে নেয়া হয়, বিয়ের পর স্বামী এবং পরিবারের সিদ্ধান্তই নারীর সিদ্ধান্ত। 

নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক নারী তার পরিবার, সঙ্গী বা সমাজকে খুশি করতে সিদ্ধান্ত নেয়, মা হওয়ার। অর্থাৎ, প্রকৃতপক্ষে সিদ্ধান্ত তো স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনই নিচ্ছে। দায়িত্ব পুরোটাই এসে পরে একজন মায়ের কাঁধে। পান থেকে চুন খসলেই প্রশ্ন ওঠে সেই মায়ের যোগ্যতা নিয়ে, দায়িত্ববোধ নিয়ে!  

 

এ-দিকে, আমাদের দেশে বাল্যবিয়ের যে ভয়ংকর রূপ রয়েছে, তা কারোই অজানা নয়। আর বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েদের ক্ষেত্রে, তারা বুঝে ওঠার আগেই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় মা হওয়ার দায়িত্ব।  যে বয়সে স্কুলের খেলার মাঠে দাপিয়ে বেড়ানোর কথা, ঠিক সে বয়সে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘরের এক কোণে বসে পরিবার আর তার শিশুসন্তানকে সামলানোর গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে কিশোরী মাকে। 

শিক্ষিত বা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আবার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের মানুষগুলোর থাকে ভিন্ন ধরনের ভয়। কারণ, তাদেরকে আর পাঁচজন নারীর মতো যেভাবে খুশি, সে-ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।  এ-ক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হিসেবে তারা ভাবেন, কিভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে সেই নারীর ওপর মাতৃত্বের ভার চাপিয়ে দেয়া যায়, সেই ভাবনা।  

যদি-বা কখনো কোনো সুশিক্ষিত ও দায়িত্ববান স্বামী মা হওয়ার সিদ্ধান্তে নারীকে অগ্রাধিকার দেয়, তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে, তবে সে-ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় সমাজ ও পরিবার। কারণ, তাদের কাছে যে নারী যত দ্রুত মা হতে পারবে, সে ঠিক ততটাই যোগ্য বউ ও যোগ্য মা হতে পারবে৷ 

কিন্তু এত সব যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে গিয়ে নারী হারিয়ে ফেলে নিজেকে, নিজের সত্তাকে। পৃথিবীতে একমাত্র মা-ই জানেন, সন্তানকে গর্ভে ধারণ করার কষ্ট এবং ধৈর্যের অনুভূতি। শুধু কি তাই, সন্তান জন্মদানের পর থেকে শুরু হয় নারীদের জীবনের নতুন এক লড়াই। যে লড়াই শুধুই নারীর নিজের। তাই, অবশ্যই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় অগ্রাধিকার কেবল নারীরই।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ