Skip to content

২রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্থান ভেদে নারীর জীবনযাপন

নারীর জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো স্থান। একেক স্থানের নারীর জীবনযাপন একেক ধরনের হয়ে থাকে। একজন শহুরে নারীর জীবনযাপন ও একজন গ্রামীণ নারীর জীবনযাপন কখনও একইরকম হয় না। পরিবেশের উপর নির্ভর করে একজন নারীকে চলাফেরা করতে হয়। আর এক পরিবেশ থেকে অন্য পরিবেশে গিয়ে চলাফেরা করতেও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। 

 

বর্তমানে নারীরা সব কাজেই এগিয়ে যাচ্ছে। ঘরের কাজে আজ আর কেউ আটকে নেই। সকলে পড়াশোনা থেকে চাকরি সব কিছুতেই এগিয়ে আসছে। একটা সময় ছিলো যখন নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়া ছিলো দুষ্কর। এখন নারীরা উচ্চতর ডিগ্রির জন্য দেশের বাইরেও যাচ্ছে। তবে নারীর জীবনযাপনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে স্থান। দীর্ঘ সময় বাসায় থাকার পরে যখন পড়াশোনা কিংবা কাজের জন্য বাইরে যাওয়া হয় তখন নারীদের চলাফেরা থেকে জীবনযাপন সবকিছুতেই পরিবর্তন আসেন।

 

একজন মেয়ে বা নারী প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ঢাকায় যখন পড়তে আসে তখন দেখা যায় তাদের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে অনেক সময় চলে যায়। জন্মের পর থেকে ১৮ বছর কিংবা তারও বেশি সময় তারা পরিবারের সাথে থাকে। কিন্তু এরপর যখন তারা পরিবার থেকে দূরে আসে তাদের মানসিক অবস্থা এমনিতেই খারাপ থাকে, তারমধ্যে আবার নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকে। এই পরিস্থিতিতে তারা মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়।

 

গ্রামীণ পরিবেশে নারীদের বিধিনিষেধ অনেক দৃঢ় থাকে। সেদিক থেকে শহুরে পরিবেশে নারীদের বিধিনিষেধ তুলনামূলক কম থাকে। গ্রামে একজন নারীকে নিজের ক্যারিয়ার ঠিক করার আগে লোকে কি বলবে না বলবে এসব নিয়ে ভাবতে হয়। কিন্তু শহরে নারীরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্যারিয়ার ঠিক করতে পারে। তাদের কোনো লোকের কথা ভাবতে হয় না। কারণ শহরে মানুষ নারীকে এগিয়ে দিতে সাহায্য করে কিন্তু গ্রামে নারীদের যেকোনো কাজে টেনে পিছিয়ে নিয়ে যায়।

 

শহর ও গ্রামে মানুষের চিন্তাধারাতেও তফাৎ থাকে। আর এই তফাৎ মানুষের জীবনযাপনেও বাধা দেয়। তাই গ্রামে যে কাজ করতে অনেক চিন্তা ভাবনা করতে হয় শহরে সে কাজ করতে খুব বেশি ভাবতে হয় না। গ্রামে 'লোকে কি বলবে' এই ধরনের কথা বা ভয় মানুষের মনে সবসময়ই থাকে কিন্তু শহরে একজন মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাই অপরজনের দিকে তাকানোর সময় থাকে না। এই স্থানের মানুষের শহরে এসে মানিয়ে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ কেউ তার দিকে না তাকালেও তার মনে ভয় থেকেই যায়। এই ভয় কাটতে তার অনেক সময় লাগে।

যখন কেউ সহজে এক পরিবেশ থেকে অপর পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে তার উপর লোকের কথা কোন প্রভাব ফেলে না। সে সহজে নিজের ভয় কাটিয়ে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে। একেক অঞ্চলের মানুষের ভাষা বা সংস্কৃতি একেক রকম থাকে। তাই মফস্বল থেকে যখন কেউ ঢাকায় আসে তার জীবনমানের অনেক পরিবর্তন হয়। মফস্বল এলাকায় সন্ধ্যার পরে নারীদের ঘরের বাইরে যেতে হলে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সাথে নিতে হয়। কিন্তু ঢাকায় এরকম কোন নিয়ম নেই। নারীরা নিজেদের মতো চলাফেরা করতে পারে। 

গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠা মানুষের যেমন শহরে এসে মানিয়ে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হয় ঠিক একইভাবে শহরে বেড়ে উঠা মানুষের গ্রামের পরিবেশে মানিয়ে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একজন নারী শহরে যেভাবে চলাফেরা করতে পারে গ্রামে সেভাবে পারবে না। যেমন শহরে যে কাপড় পরিধান করা যায় গ্রামে তা পরিধান করা যায় না। যদি কেউ শহরে যেসব কাপড় পরিধান করে চলাফেরা করে গ্রামেও তা করে, সেক্ষেত্রে তাকে বিভিন্ন আপত্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। 

 

স্থান পরিবর্তনকালে নারীর জীবনযাপনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আর এসব কিছুর সাথে মানিয়ে নিয়েই তাদের চলতে হয়। তবে অনেকে মানিয়ে নিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে পারলেও কারো কারো জীবন যাত্রা থমকে যায় মাঝপথে।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ