Skip to content

৪ঠা মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘কন্যা দানের সামগ্রী নয়’

বিয়ে সামাজিক জীবনের একটি অতি সাধারণ ঘটনা। হিন্দু ধর্মের বিয়েতে কন্যাদান একটি অন্যতম অপরিহার্য আচার হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু কন্যাদান কি? কন্যা কি পণ্য যে বিশেষ আচারের মাধ্যমে তাকে অন্যের কাছে দান করতে হবে? এসব প্রশ্ন থেকেই ভারতের দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলার এক বাবা মেয়ের বিয়েকে ঘিরে কন্যাদানকে নিয়ে এক অনন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যা তাকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে ফেলে দেয়। মেয়ের বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে একটু ভিন্ন ঘরানায় বয়ান লিখেছিলেন।

 

কার্ডে ছাপা হয়েছে সাধারণ আমন্ত্রণপত্রের মতোই বয়ান। শুধু ইংরেজি বয়ানের শেষে লেখা – ‘কন্যা দানের সামগ্রী নয়’। আর বাংলা বয়ানের পর লেখা – ‘কন্যা দান নয়, রক্ত দান।’ কিন্তু এই বয়ান পছন্দ হয়নি কট্টরপন্থীদের। তাঁদের মত, কন্যাদান হিন্দু বিবাহের একটি রীতি। এটা ছাড়া বিবাহ সম্পূর্ণ হয় না। তাই কার্ডের বয়ানের ওই অংশটুকু হিন্দুত্বের অপমান। 

 

‘কন্যা দানের সামগ্রী নয়’

 

ডিসেম্বরে মেয়ের বিয়ের আগে এই পরিস্থিতিতে খানিকটা চিন্তিত তিনি। তিনি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানান, মেয়ের বিয়ের চিঠিটি নেটমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে! একের পর এক ‘বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার’ হুমকি-ফোন আসছে। আতঙ্কের চোটে তারা পুলিশে পর্যন্ত হুমকির ঘটনাটি জানাননি।

 

এ ঘটনায় কোনো প্রচারের উদ্দেশ্য ছিল না বলেই তা বার বার মনে করাচ্ছেন পাত্রীর বাবা। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন পারিবারিক বিশ্বাস বা মূল্যবোধের জন্য এতটা উদ্বেগ বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে তা তিনি কল্পনাও করেননি।

 

সম্প্রতি এক পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থার বিজ্ঞাপনে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে কনের সাজে দেখা গিয়েছিল। বিয়ের মণ্ডপে প্রশ্ন তোলা হয়, কন্যা কীভাবে দানের সামগ্রী হয়? বার্তা দেওয়া হয়, ‘কন্যাদান’ নয়, ‘কন্যামান’ হোক। নেটদুনিয়ার একাংশের অভিযোগ, এই বিজ্ঞাপন হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে প্রচার। কারও দাবি, হিন্দু ধর্মে কন্যাদান মানে কন্যাকে দান নয়, বরং কন্যার জন্য দান। নিন্দুকদের অভিযোগ, এই সংস্থা ঐতিহ্যকে অপমান করেছে। সেই বিজ্ঞাপন ঘিরেও শুরু হয়েছিল তোলপাড়। হিন্দুত্ববাদীদের প্রতিবাদ, হুমকির মুখে পড়ে শেষে সেই বিজ্ঞাপনটি তুলে নিতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট পোশাকের ব্র্যান্ডটি। 

 

যুগ বলেছে, সময় বদলেছে। সমাজ নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করছে। কিন্তু প্রাচীন রীতি ধ্যান-ধারণা থেকে যে বেরিয়ে আসতে পারেনি সমাজ, এই ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট। মেয়ের বিয়ের আচার-অনুষ্ঠানে ‘কন্যাদান’, ‘কনেবিদায়’, 'কনকাঞ্জলি'র মতো রীতি আজও চলছে। কন্যাকে ‘দানসামগ্রী’র সঙ্গে তুলনা করার মতো প্রাচীন ধ্যানধারণা ফেলে আসার দিন আসন্ন।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ