Skip to content

৮ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মশলার রাজা গোল মরিচ

গোল মরিচ নিজ গুণে বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক পরিচিত একটি মশলা। তীক্ষ্ণ স্বাদে ভরপুর গোল মরিচ রান্নার সময় তরকারিতে দিয়ে কিংবা চিবিয়ে খাওয়া যায়। গোল মরিচের গাছ চাষ করা হয়, সেই গাছের যে ফুল হয় তাই গোল মরিচ। গোল মরিচ সাধারণত তিন ধরনের- সাদা,কালো ও সবুজ হয়।

 

গোল মরিচ Piperacea পরিবারের পুষ্টিতে ভরপুর, ঝাঁঝালো ও শুকনো ফল। যা রান্নায় ব্যবহৃত হয় সেই সাথে ওজন কমাতে, হজমে এবং দেহকে ডিটক্সাইফাই করে ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। গোল মরিচের শক্তিশালী ও উপকারী উদ্ভিদ যৌগ গুলির উচ্চ ঘনত্বের কারণে প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে হাজার বছর থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

 

গোল মরিচ যে শুধু মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয় তা নয়। গোল মরিচ শুকিয়ে যাওয়ার পরে তা পিষে তেল বের করা হয়। এই তেল সৌন্দর্য পণ্যে, ভেষজ চিকিৎসায় এবং আয়ুর্বেদিক ম্যাসেজ তেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গোল মরিচ নিজ স্বাদে ও গুণে অনন্য হওয়ায় "মশলার রাজা" হিসেবে পরিচিত।

 

গুণাগুণ বিচারে সাদা, কালো ও সবুজ গোল মরিচের গুণাগুণ ভিন্ন হয়। কালো গোল মরিচের তুলনায় সাদা গোল মরিচের ঔষধি গুণাগুণ বেশি থাকে।  স্বাদে যেমন তফাৎ থাকে কাজেও তফাৎ থাকে। চলুন তবে জেনে নেই সাদা গোল মরিচের গুণাগুণ।

 

ক্যাপসাইনিন ওজন কমানোর যত ওষুধ তৈরি হয় সেই সবেও থাকে। অর্থাৎ শরীরে জমে থাকা ফ্যাট বার্ণ করতে ক্যাপসাইনিন ব্যবহৃত হয় এবং দ্রুত ওজন কমায়। এ কারণে ওজন কমানোর জন্য ওষুধ না খেয়ে প্রতিদিন সাদা গোল মরিচ খেতে পারেন।

 

নিউরোপেপটাইড ব্যথা তৈরি করে মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় এবং মাথা ব্যথা অনুভব হয়। সাদা গোল মরিচে থাকা ক্যাপসাইনিন এই ট্রান্সমিশন ঘটাতে বাধা দেয়। যার ফলে মাথা ব্যথা নিজের স্বরূপ প্রকাশ করতে পারে না এবং ব্যথাও করে না।

 

কাশি ও গলাব্যথা সারাতেও গোল মরিচের জুড়ি নেই। গোল মরিচের গুড়া ও মধু মিশিয়ে খেলে তা এন্টিবায়োটিক এর মতো কাজ করে এবং কাশি ও গলাব্যথা কমে যায়।

 

ক্যাপসাইনিনের পাশাপাশি উচ্চমাত্রার ফ্ল্যাভনয়েড, ভিটামিন এ ও সি সাদা গোল মরিচে রয়েছে। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাদা গোল মরিচ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিৎ।

 

দাঁত ব্যথা কমাতেও সাদা গোল মরিচের জুড়ি নেই। দাঁত ব্যথায় এক কাপ পানিতে লবঙ্গ, খাওয়ার লবণ ও সাদা গোল মরিচ দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি ছেঁকে নিয়ে দাঁতের ব্যথা যে পাশে সেই পাশে কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে হালকা কুলকুচি করে ফেলে দিতে হবে। দিনে কয়েক বার এভাবে কুলকুচি করলে ব্যথা কমে যাবে।

 

মুখের রুচিকে একটি বিশেষ সিগন্যাল বা বার্তা পাঠায় সাদা গোল মরিচ। ফলে পাকস্থলীতে হাইড্রোলিক অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য পরিপাকের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান এই অ্যাসিড। যা খাদ্যকে ভালো ভাবে পরিপাক করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।

 

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাদা গোল মরিচ বেশ উপকারী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। একারণে খালি মুখে গোল মরিচ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রাখা ভালো।

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ