বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
বিনোদন

‘মহানগর’ যেন প্রতিটি মহানগরের রোজকার চিত্র

image-2217-1624888349

শিল্পপতিদের বখে যাওয়া ছেলের  অন্যায়, এ সমাজে ক্ষমতা হাতে নিয়ে বসে থাকা ঘুষখোর পুলিশ অফিসার, অপর দিকে সত্য বের করে আনা সৎ পুলিশ অফিসার, বিনা অপরাধে সাজা পেয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষ,  সব চিত্রই উঠে এসেছে আশফাক নিপুণের নির্মিত 'মহানগর ' ওয়েভ সিরিজে। 

 

গল্পটা শুরু হয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতি আলমগীর চৌধুরীর বখে যাওয়া ছেলে আফনান চৌধুরীর পার্টি  থেকে। যে কিনা কোন ধরনের হার মেনে নিতে পারেন না। এদিকে বিবাহিত হয়ে টাকার জোরে সুন্দরী নায়িকাকে নিজের প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় করান। আমাদের সমাজের এমন চিত্রের সাক্ষী তো আমরা কতবার হয়েছি। 

 

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক নিরীহ দিনমজুর সাইকেল চালকে গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করে আফনান। আর অন্যদিকে প্রভাবশালী হওয়ায়  পুলিশ অফিসার ঘুষ খেয়ে এই ঘটনার ধামাচাপা দিতে প্রমাণ লোপাট করে একজন সাধারণ চাকুরীজীবী আবিরকে ফাঁসিয়ে দেন। 

 

এই হত্যা এবং হত্যাকারীকে ছেড়ে দেওয়ার  রহস্য নিয়ে গল্প এগোতে থাকে। এক রাতের গল্প,  মাত্র সাত ঘণ্টা আর একটি থানা। 

 

ওয়েভ সিরিজে অভিনয় করেন মোশারফ করিম, জাকিয়া বারী মম , শ্যামল মাওলা, মোস্তাফিজুর নুর ইমরানের মত এই সময়ের সেরা অভিনয় শিল্পীরা। 

 

ইতোমধ্যেই ওয়েভ সিরিজটি দর্শক মহলে সাড়া ফেলেছে। সিরিজে নানা দুর্নীতির মধ্যে নিজের দাপুটে অভিনয় দিয়ে দর্শক মনে জায়গা করে নেন মম। পরিচয় রাখেন একজন সৎ অফিসার হিসেবেও। তাছাড়া সত্যের খোঁজেও কাজ করে পুলিশ এমন সাক্ষর রাখতে সাব ইন্সপেক্টর মলয়ের ভূমিকায় থাকা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান অভিনয়ে নিজস্বতা তুলে ধরেন। 

 

তবে গল্প সাইকেল চালকের খুন নিয়ে এগোলেও শেষে মোড়  নেয় অন্যদিকে। আফনানের আরো অপকর্ম বেরিয়ে আসে শেষদিকে। সেটা হচ্ছে পার্টিতে বন্ধুর সুন্দরী প্রেমিকাকে ধর্ষণের ঘটনা। যা ওসি হারুন নিজের তদন্ত দক্ষতায় বের করেন। ঘুষ খেয়েও ছেড়ে দিচ্ছি করে করে শেষ পর্যন্ত আফনানকে আদালতে চালান করন তিনি৷ তবে কি ওসি হারুন আসলেই দুর্নীতিবাজ নাকি একজন সৎ অফিসার। সিরিজের শেষ দৃশ্যে এমনই এক রহস্য জনক ঘটনায় শেষ হয়। যা দর্শকে আগ্রহ ধরে রাখতে পারবে পরবর্তী সিজনের জন্য।  

 

সাবলীল ভাবে এখানে আশফাক নিপুণ এখনে আট পর্বের সম্পুর্ন থ্রিল ভিত্তিক ওয়েভ সিরিজের প্রথম সিজন দিয়ে দর্শক মহলে সাড়া ফেলে দেন।