Skip to content

২২শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দাবাড়ু গড়ার কারিগর!

একজন দাবাড়ুর সর্বোচ্চ খেতাব গ্র্যান্ডমাস্টার। আর দাবা সংগঠকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সংগঠক বা আইও। দুই বছর আগে মাহমুদা হক চৌধুরী (মলি) এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং একমাত্র নারী দাবা সংগঠক। গত বছর দাবা ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নারী সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফেডারেশনের অর্থায়নে কোন কার্যকরী দাবা একাডেমী নেই, তিনি নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন এলিগেন্ট ইন্টারন্যাশনাল চেস একাডেমী।

 

স্বামী সৈয়দ শাহাবুদ্দিন ক্রীড়া সংগঠক। বর্তমানে দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। একমাত্র ছেলে সৈয়দ রিদওয়ানও খুদে দাবাড়ু। জাতীয় সাব-জুনিয়র অনূর্ধ্ব-১২-এ দাবায় রানারআপ হয়েছে রিদওয়ান। রীতিমতো একটা দাবা পরিবার মাহমুদার। মাহমুদার স্বামীও আইও স্বীকৃতি পেতে পারেন এ মাসেই। সেটি চলে এলে দাবার ৬৪ ঘরের নানা মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে এই জুটি একটা রেকর্ডই গড়ে ফেলবেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই আইও! মাহমুদা বলেন, ‘পুরো বিশ্বেই পুরুষ ও নারী দাবা আন্তর্জাতিক সংগঠক হাতে গোনা। তাই এই স্বীকৃতিটা বাংলাদেশের দাবার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’

 

মা নূরজাহান হক চৌধুরীর কাছ থেকে মাহমুদার দাবায় হাতেখড়ি। বাবা মসরুল হক চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। বাবা শুরুতে দাবা খেলার প্রতি খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও মায়ের অনুপ্রেরণায় খেলতেন মাহমুদা। খেলার সঙ্গীও ছিলেন বাড়িতেই। খেলতেন বড় দুই বোন আফরোজা হক চৌধুরী, ফিরোজা হক চৌধুরীর সঙ্গে। মাহমুদারা তিন বোনই জাতীয় পর্যায়ে দাবা খেলেছেন।

 

মাহমুদা ১৯৯৯ সালে জাতীয় মহিলা সাব-জুনিয়র অনূর্ধ্ব-১৬-এ চ্যাম্পিয়ন হন। এর আগে ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম জেলায় নারী চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঢাকায় খেলার শুরু। সেই থেকে জাতীয় দাবায় খেলেছেন ২০১২ সাল পর্যন্ত। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও অর্জন কম নয়। ২০১২ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে খেলেছেন। ২০১৬ সালে আজারবাইজানে ও ২০১৮ জর্জিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের নন-পেয়িং অধিনায়ক ছিলেন।

 

বর্তমানে মাহমুদার সব স্বপ্ন নিজের একাডেমীকে ঘিরে। দাবাড়ু গড়ার কারিগর হিসেবে এলিগেন্ট একাডেমীকে নিয়ে যেতে চান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এ ব্যাপারে তিনি জানান, ‘দুবাই, চেন্নাই, কলকাতায় আন্তর্জাতিক মানের দাবা একাডেমী দেখেছি। সেগুলো দেখেই মনে হয়েছে, আমাদের দেশেও এমন একাডেমী গড়া সম্ভব। এরপর থেকে উদ্যোগ নিই।’

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ