Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

করোনার কার্যকর ওষুধ মিলবে কবে!

 

নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ খুঁজে পাওয়া না গেলেও যারা এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ঠিকই চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন জাগতে পারে, কীভাবে? উত্তর হচ্ছে, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিত্সার জন্য এই মুহূর্তে বিশ্বে জুড়ে দেড় শতাধিক ওষুধ নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই বর্তমানে চালু আছে এমন ওষুধ। আক্রান্ত রোগীদের ওপর মূলত এসব ওষুধই প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই ওষুধগুলোর ঠিক কোনগুলো কাজে লাগবে, সেটা দেখাও হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায়।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘সলিডারিটি ট্রায়াল’ নামে একটি পরীক্ষা চালু করেছে এবং এর মাধ্যমে দেখতে চাইছে কোন ওষুধগুলো সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। যুক্তরাজ্য বলছে, তাদের ‘রিকভারি ট্রায়াল’ এই মুহূর্তে এ ধরনের সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা। ৫ হাজারের বেশি রোগী এতে অংশ নিচ্ছে। তৃতীয় বড়ো পরীক্ষা চলছে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু গবেষণাকেন্দ্রে। করোনা ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীদের রক্ত দিয়ে নতুন আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা করা যায় কি না, সেটা যাচাই করছেন এই গবেষকেরা।

 

এই মুহূর্তে তিনটি ভিন্ন ধারায় কোভিড-১৯ চিকিত্সার একটা পদ্ধতি আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। প্রথমটি হচ্ছে এন্টিভাইরাল ড্রাগ। এ ধরনের ওষুধ সরাসরি করোনা ভাইরাসকে আক্রমণ করবে, যাতে মানুষের দেহের ভেতরে এই ভাইরাস টিকে থাকতে না পারে। দ্বিতীয়ত, আরেক ধরনের ওষুধ, যেটা মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে সংযত রাখতে পারে, সেটা নিয়েও পরীক্ষা চলছে।

 

সাধারণত কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা তখনই গুরুতর সংকটে পড়েন, যখন তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এর ফলে তাদের শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় তৃতীয় যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, সেটি হচ্ছে অ্যান্টিবডি। করোনা ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা মানুষের রক্ত থেকে পাওয়া এন্টিবডি নিয়ে পরীক্ষা চলছে। ল্যাবরেটরিতে এন্টিবডি তৈরি করা যায় কি না, সেই চেষ্টারও চলছে।

 

বর্তমানের কোন ওষুধকে করোনার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ড. ব্রুসস আইলওয়ার্ড বলেছেন, ‘রেনডিসিভির’ হচ্ছে একমাত্র ওষুধ, যেটা এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় কিছুটা কার্যকর বলে মনে হচ্ছে। তিনি সম্প্রতি চীন ঘুরে এসে সেখানকার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ কথা বলছেন। এই এন্টিভাইরাল ড্রাগটি প্রথমে তৈরি করা হয়েছিল ইবোলার চিকিত্সার জন্য। কিন্তু পরে দেখা গেল, ইবোলার চিকিত্সায় এর চাইতে অনেক বেশি কার্যকর অন্য ধরনের ওষুধ খুঁজে পাওয়া গেছে। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর এই ওষুধ নিয়ে চালানো গবেষণায়ও ওষুধটিকে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সলিডারিটি ট্রায়াল’ যে চারটি ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে, এই ওষুধ তার একটি। এইচআইভির চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয় এমন দুটি ওষুধ ‘লোপিনাভির’ ও ‘রাটিনাভির’ করোনা ভাইরাসের চিকিত্সায় খুবই কার্যকর বলে অনেক কথাবার্তা শোনা গেলেও তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সলিডারিটি ট্রায়াল ও যুক্তরাজ্যের রিকভারি ট্রায়ালে’ উভয় ক্ষেত্রেই ম্যালেরিয়ার ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ম্যালেরিয়ার দুটি ওষুধ ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনে এন্টিভাইরাল এবং রোগপ্রতিরোধক্ষমতা সংযত রাখে এমন উপাদান আছে বলে মনে করা হয়। এই দুটি ওষুধ সম্পর্কে অনেক কথাবার্তা হলেও এখন পর্যন্ত এর সুফল সম্পর্কে জোরালো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ম্যালেরিয়ার চিকিত্সা ছাড়াও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হয় ‘রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস’-এর চিকিত্সায়।

 

করোনা ভাইরাসের চিকিত্সায় কার্যকর একটি ওষুধ পেতে কতটা সময় লাগবে, এটা বলার সময় এখনো আসেনি। যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন চলছে, ধারণা করা যায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তার ফলাফল আমরা জানতে পারব। করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করতে হচ্ছে একেবারে শূন্য থেকে। এ কারণেই মনে করা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে যতটা সময় লাগবে, হয়তো তার আগেই চলে আসবে কোনো কার্যকর ওষুধ। এর কারণ হচ্ছে, চিকিত্সকেরা যেসব ওষুধ দিয়ে করোনা ভাইরাসের রোগীদের ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছেন, সেই ওষুধগুলো এখনই তৈরি আছে এবং সেগুলো নিরাপদ বলে প্রমাণিত।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ