৬ নভেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

চারদিকে শুধু আগ্নেয়গিরির ছাই, এর মধ্যেই কীভাবে ফুটল টকটকে লাল ফুল?প্রকৃতির এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য, যা আজও মুগ্ধ করে!

WhatsApp Image 2026-11-05 at 7.40.12 PM

প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনো কখনো সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে তার ভয়ংকর রূপের মাঝেই। চারপাশে ধূসর ছাই, বিবর্ণ গাছপালা, প্রাণহীন পরিবেশ—এমন এক দৃশ্যের মধ্যেই হঠাৎ চোখে পড়ে উজ্জ্বল লাল একটি জবা ফুল। যেন ধ্বংসস্তূপের বুক চিরে জীবনের জয়গান গাইছে ফুলটি।

২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর। ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার কারো জেলার মার্দিংদিং গ্রাম তখন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে বিপর্যস্ত। সিনাবুং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাই ঢেকে দিয়েছিল আশপাশের গাছপালা, ঘরবাড়ি ও প্রকৃতিকে। সবুজ পাতার ওপর জমেছিল পুরু ধূসর ছাই। পরিচিত প্রকৃতি যেন মুহূর্তেই বদলে গিয়েছিল এক বিবর্ণ ভূদৃশ্যে। কিন্তু সেই ধূসরতার মাঝেই ফুটে ছিল একটি লাল জবা ফুল। চারপাশের ছাইয়ে ঢাকা পাতা ও ডালের বিপরীতে ফুলটির উজ্জ্বল লাল রং তৈরি করেছিল এক অসাধারণ বৈপরীত্য। ধ্বংসের মধ্যে সৌন্দর্যের এমন উপস্থিতি সহজেই কেড়ে নেয় মানুষের দৃষ্টি।

ছবি:সংগৃহীত

ছবিটি সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের আলোকচিত্রীর ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ছবিটি বিভিন্ন সংবাদ ও আলোকচিত্রভিত্তিক প্রকাশনায় স্থান পায়। একটি ছোট্ট ফুলের ছবি হয়ে ওঠে প্রকৃতির বিস্ময়কর বৈপরীত্যের প্রতীক। জবা ফুল সাধারণত আমাদের কাছে পরিচিত বাগানের একটি সাধারণ ফুল। কিন্তু এই ছবিতে তার উপস্থিতি যেন অন্য অর্থ বহন করে। চারপাশের প্রতিকূলতা, বিপর্যয় কিংবা বিবর্ণতার মধ্যেও সৌন্দর্য হারিয়ে যায় না—এমন একটি অনুভূতি তৈরি করে ছবিটি।

প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে পরিচিত পরিবেশ। তবু প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে কোথাও না কোথাও নতুন জীবনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ছাইয়ে ঢাকা সেই লাল জবা তাই কেবল একটি ফুলের ছবি নয়; এটি প্রতিকূলতার মাঝেও সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য দৃশ্য। ধূসর পৃথিবীর বুকেও যে রঙের অস্তিত্ব মুছে যায় না, ফুলটি যেন নীরবে সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

Advertisements
Advertisements