৬ নভেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২১ কার্তিক ১৪৩৩
শিক্ষা

উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকতে পারে প্রায় ৮ লাখ আসন

121da04146482e21e17190cbb02d7a84

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে প্রায় ৫৬ শতাংশ আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ‘সহানুভূতির নম্বর’ দেওয়ার প্রচলন বন্ধ, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের সংকট, শিখন ঘাটতি এবং অতিমাত্রায় মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থাকে ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। সে হিসাবে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হলেও প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি আসন খালি থাকবে। অর্থাৎ মোট আসনের প্রায় ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশই ফাঁকা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত তিন বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর প্রতিবছরই প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হন না। কেউ চাকরিতে যোগ দেন, কেউ ব্যবসায় যুক্ত হন, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। অনেক ছাত্রীর বিয়ের কারণেও পড়াশোনায় বিরতি তৈরি হয়। তাদের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে আর শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন না। গত তিন বছরের মতো এবারও যদি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার অব্যাহত থাকে, তাহলে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা আসনের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখে পৌঁছাতে পারে।

তবে পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর সম্পূরক বা পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার কথা রয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যারা উত্তীর্ণ হবেন, তারাও চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন। এবার এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। আর দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ২০৮ জন।

নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতা, চাপে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো

সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষায় আসনসংখ্যা বেশি থাকলেও সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চিত্র এক রকম হবে না। দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবারও ভর্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন ও তুলনামূলক ছোট বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

Advertisements

বর্তমানে দেশে ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১৭টি। ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ১০ লাখ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৪ লাখ আসন রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তির যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল কলেজসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির জন্য ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত কলেজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে তুলনামূলক বেশি আসন পূরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও কি ভর্তির যোগ্যতায় শিথিলতা আসবে?

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিপিএ-৫, জিপিএ-৪ এবং জিপিএ-৩-এর বেশি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। জিপিএ-৪-এর বেশি পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ জন। জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৪-এর মধ্যে ফল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮২৬ জন। এ ছাড়া জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫০-এর মধ্যে রয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৭১ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, জিপিএ-৩-এর নিচে পেয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট জিপিএ থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে তুলনামূলক কম জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার সুযোগ নাও পেতে পারেন। এ কারণে ভর্তি প্রতিযোগিতার ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তির যোগ্যতার শর্ত শিথিল করবে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। ফল প্রকাশের দিন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কতটুকু ‘কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ’ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে, এটা তো তাদের নিজস্ব বিষয়, তারা সেভাবে চিন্তাভাবনা করবে। তবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সবাই পাবেন।’

তবে শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ মনে করেন, আসন ফাঁকা থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভর্তির যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা উচিত হবে না। এতে উচ্চশিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক এ বিষয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখনই যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষার্থী বের করতে পারছে না। সেখানে যদি আমরা আরো ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থীদের শর্ত শিথিল করে ভর্তি করি, আমাদের শিক্ষার মান খারাপ হবে। আমরা শুধু সার্টিফিকেটধারী বেকার তৈরি করব। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যারা খারাপ করেছে, তাদের পেছনে ইনভেস্ট করাটা বেকার তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

উচ্চশিক্ষায় মোট আসন প্রায় ১৫ লাখ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আসনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বর্তমানে চালু ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি।

এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার আসন।

তবে মোট আসনের সংখ্যা বেশি হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন রয়েছে মাত্র ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। সে হিসাবে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাত্র ৯ দশমিক ৮ শতাংশের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পছন্দের বিষয় ও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসনসংখ্যা কত?

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আসনসংখ্যা বিশ্লেষণ করলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির প্রতিযোগিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। দেশের প্রধান কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের আসনসংখ্যা হলো—

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ৬ হাজার ১২৫টি।
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ৩ হাজার ৯৫৬টি।
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ৪ হাজার ৩৩টি।
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ১ হাজার ৮৪৮টি।

প্রকৌশল শিক্ষায় দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর আসনসংখ্যাও তুলনামূলক সীমিত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আসন রয়েছে ১ হাজার ৩০৯টি। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ১ হাজার ২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ হাজার ১০৫টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি আসন রয়েছে।

কৃষিশিক্ষার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫১০টি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩১টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৪টি আসন রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ১ হাজার ৬৩৬টি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১০৯টি, হাজি মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ১০০টি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৬১১টি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৯৫৭টি আসন রয়েছে।

ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যেও থাকবে প্রতিযোগিতা

এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার ৮৪ জন। এর বাইরে ভালো ফল করা আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য আবেদন করবেন। কিন্তু দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল ক্যাম্পাসে আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট এবং অন্যান্য প্রকৌশল ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই নয়, ভর্তি পরীক্ষায় ভালো অবস্থান অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Advertisements