ভুটানে হিমবাহের হ্রদ উপচে আকস্মিক বন্যা, পশ্চিমবঙ্গ-আসামের ৫ জেলায় রেড অ্যালার্ট

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ থেকে পানি উপচে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। বন্যার পানির সঙ্গে পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বন্ধ হয়ে গেছে মহাসড়কের একটি অংশ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, ভুটান থেকে নেমে আসা পানির কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সংকোশ নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ইতোমধ্যে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুটানের পুনাখা জেলার গুমা গেওগের দোছুখা-জোমলিংথাং-রিৎসা চিওগ এলাকায় বন্যার পানিতে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচের পানি উত্তোলনব্যবস্থা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চলতি বছরের শুরুতে সেচব্যবস্থাটি স্থাপন করা হয়েছিল।
এ ছাড়া আকস্মিক বন্যায় পুনাখা-গাসা মহাসড়কের জোমলিংথাং অংশে পাথর, মাটি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারি প্রতিনিধি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নিচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদে এ ঘটনা ঘটে। হ্রদটি শিনতাফু সো নামেও পরিচিত। মো ছু নদীর অববাহিকার উজানে অবস্থিত হ্রদটির পানি উপচে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে মো ছু নদীতে মিশে যায়। এতে নদীর ভাটির অংশে পানির প্রবাহ বেড়ে যায় এবং আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
ভুটানের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি হিমবাহ হ্রদের তালিকায় রয়েছে শিনতাফু। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজির এক কর্মকর্তা জানান, তাকতসিমাখাং এলাকায় পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার সময় সেখানে কোনো সতর্কসংকেত সক্রিয় হয়নি। হ্রদ থেকে ঠিক কত পরিমাণ পানি বেরিয়ে এসেছে এবং এর ফলে ভাটির অঞ্চলগুলোতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের পাঁচ জেলায় রেড অ্যালার্ট
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ থেকে পানি নেমে আসার পর ভারতের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংকোশ নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, পুনাতসাংছু নদীর উজানে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং আসামের ধুবড়ি জেলায় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকাকেও সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এসডিআরএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাগুলো আসাম সীমান্তের কাছে সংকোশ নদীর তীরে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে।
জারি করা বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বন্যার পানি ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ভারত-ভুটান সীমান্তে পৌঁছাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর প্রশাসনকে নদীর পানির উচ্চতা ও বন্যার গতিপ্রকৃতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে এবং প্রয়োজনীয় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



