২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

নানি হলেন ৯ শাবকের বাঘিনী মা

bengal-tiger-2-20210625184524

চোরাশিকার ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকটের কারণে একসময় অস্তিত্বের হুমকিতে থাকা থাইল্যান্ডের বাঘের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেশটিতে বাঘ সংরক্ষণের এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মায়ে কায়েও নামের একটি বাঘিনী। তিন দফায় মোট নয়টি শাবকের জন্ম দেওয়া এই বাঘিনী এবার নানি হয়েছে। তার একটি মেয়ে বাঘও নতুন শাবকের জন্ম দিয়েছে।

থাইল্যান্ড সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই দেশটিতে বাঘের সংখ্যা আনুমানিক ২১০ থেকে বেড়ে ২৫৭টির মধ্যে পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশটির হুয়াই খা খেং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে বসবাস করে মায়ে কায়েও। ২০২২ সালে সে দুটি শাবকের জন্ম দেয়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে আরও তিনটি শাবক জন্ম নেয় তার ঘরে। এরপর ২০২৬ সালে চারটি শাবকের জন্ম দিয়ে মোট নয়টি শাবকের মা হয় বাঘিনীটি।

সম্প্রতি বনাঞ্চলে স্থাপন করা ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছে মায়ে কায়েওর পরিবারের নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি। ২০২২ সালে জন্ম নেওয়া তার একটি মেয়ে বাঘকে নিজের শাবকসহ চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এর মধ্য দিয়ে মায়ে কায়েওর নানি হওয়ার খবর সামনে আসে।

থাইল্যান্ডে বাঘের সংখ্যা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা পেতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে জরিপ চালানো হয়। এ জরিপের অংশ হিসেবে দেশটির সংরক্ষিত ৩০টি এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৬টি এলাকায় বাঘের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। জরিপে সবচেয়ে বেশি বাঘের সন্ধান পাওয়া যায় হুয়াই খা খেং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে, যেখানে আনুমানিক ১০০টি বাঘ রয়েছে।

বাঘের সংখ্যা বাড়াতে থাইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ২০১০ সালে বাঘ সংরক্ষণবিষয়ক সেন্ট পিটার্সবার্গ ঘোষণায় স্বাক্ষর করার পর দেশটি চোরাশিকার প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করে। পাশাপাশি বনরক্ষীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো, বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং বাঘের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত বন্য প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Advertisements

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, বাঘের বংশবৃদ্ধি ও টিকে থাকার জন্য নিরাপদ বনাঞ্চল, পর্যাপ্ত শিকার এবং মানুষের অনুপ্রবেশমুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদান নিশ্চিত করা গেলে বাঘের প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মায়ে কায়েওর পরিবারে নতুন প্রজন্মের আগমন থাইল্যান্ডের বাঘ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতির একটি উদাহরণ। একই সঙ্গে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং চোরাশিকার বন্ধে ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে এই ঘটনা।

Advertisements