৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া কি শুধু বয়সের প্রভাব?

health-risk-6acb5fe734a6d

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই ছোটখাটো বিষয় মনে রাখতে সমস্যা হয়। কখনো বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা ভুলে যাওয়া, চশমা কোথায় রেখেছেন তা খুঁজে না পাওয়া কিংবা পরিচিত মানুষের নাম মনে করতে সময় লাগা—এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই হতে পারে। তবে বারবার ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলেই সেটিকে ডিমেনশিয়া বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, পুষ্টির অভাব, ঘুমের অনিয়ম, মানসিক চাপ কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বয়সজনিত স্বাভাবিক ভুলে যাওয়া এবং ডিমেনশিয়ার লক্ষণ এক নয়। সাধারণত স্বাভাবিক ভুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো তথ্য মনে করতে কিছুটা সময় লাগলেও পরে তা মনে পড়ে যায়। কিন্তু একই কথা বা প্রশ্ন বারবার বলা, পরিচিত জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা কিংবা দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ করতে অসুবিধা হওয়া ডিমেনশিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ডিমেনশিয়া ছাড়াও বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি। শরীরে এই ভিটামিনের পরিমাণ কমে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। একইভাবে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার আরেকটি কারণ। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি থাকলে নতুন তথ্য মনে রাখা এবং প্রয়োজনের সময় তা মনে করতে সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অবসাদও মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে। ফলে অনেক সময় ব্যক্তি কোনো বিষয় ঠিকভাবে মনে রাখতে পারেন না।

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ এবং ব্যথানাশক ওষুধের কিছু উপাদান মস্তিষ্কের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাসও স্মৃতিশক্তির ক্ষতি করতে পারে।

বয়স্ক কোনো ব্যক্তির মধ্যে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। আবার শুরুতেই ডিমেনশিয়া ভেবে আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। সমস্যার প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা এবং থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

Advertisements

এ ছাড়া রোগী নিয়মিত কী কী ওষুধ সেবন করছেন, তার ঘুমের ধরন কেমন এবং মানসিক স্বাস্থ্যে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না, সেসব বিষয়ও মূল্যায়ন করা হয়। স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতা যাচাই করতে চিকিৎসক কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা সহজ পরীক্ষা করতে পারেন।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার পেছনে যদি ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, ঘুমের অনিয়ম কিংবা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতো চিকিৎসাযোগ্য কারণ থাকে, তাহলে যথাযথ চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি সম্ভব। তবে সব ধরনের স্মৃতিভ্রংশ পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না। তাই সমস্যার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত কারণ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে হঠাৎ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা বা বিভ্রান্তির পাশাপাশি কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়লে বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এগুলো স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

বয়স বাড়লেই স্মৃতিশক্তি হারানো অনিবার্য নয়। স্বাভাবিক ভুলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে এবং গুরুতর লক্ষণকে বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করে এড়িয়ে না গিয়ে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisements