২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

নিয়মিত মাছ খেলে শরীরে যেসব উপকার পাওয়া যায়

fish-fry-20230304111116

বাঙালির খাবারের তালিকায় মাছের রয়েছে বিশেষ জায়গা। দুপুর কিংবা রাতের খাবারে মাছ না থাকলে অনেকেরই যেন খাওয়াটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে মাছ শুধু স্বাদেই অতুলনীয় নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের কিছু প্রজাতিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মাছ থেকে পাওয়া যায় ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত মাছ খেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। মাছ খাওয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো।

হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক

মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে তৈলাক্ত সামুদ্রিক মাছে এই পুষ্টি উপাদান তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। এটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে মাছ খাওয়া হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু মাছ খেলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি দূর হয় না; নিয়মিত ব্যায়াম, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। মাছ এসব উপাদানের ভালো উৎস। নিয়মিত মাছ খাওয়া মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জ্ঞানীয় কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে মাছ খেলে স্মৃতিশক্তি নিশ্চিতভাবে বেড়ে যায় বা আলঝেইমার্স রোগ প্রতিরোধ হয়—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

Advertisements

পেশি গঠন ও শরীরের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে

মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। শরীরের পেশি গঠন, ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের মেরামত এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কার্যক্রমে প্রোটিন প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা পেশির শক্তি বাড়াতে চান, তাঁদের খাদ্যতালিকায় মাছ রাখা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও পেশি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে

চোখের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া কিছু মাছের প্রজাতিতে ভিটামিন এ-সহ চোখের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে চোখের সব ধরনের সমস্যা মাছ খাওয়ার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়। চোখের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে ভূমিকা রাখে

ত্বক ও চুল সুস্থ রাখতে প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দরকার। মাছ এসব পুষ্টি উপাদানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎস। খাদ্যতালিকায় মাছ থাকলে শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়, যা ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু মাছ খেলেই ত্বক উজ্জ্বল হবে বা চুল পড়া বন্ধ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি ছাড়াও হরমোন, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দায়ী হতে পারে।

হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে

কিছু মাছ, বিশেষ করে চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস। শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং হাড়ের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ। ছোট মাছ কাঁটাসহ খেলে ক্যালসিয়ামও পাওয়া যায়। তাই উপযুক্ত পরিমাণে মাছ খাওয়া হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে হাড় মজবুত রাখতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও প্রয়োজন।

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক

শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান প্রয়োজন। মাছ থেকে পাওয়া পুষ্টি এসব চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে মাছ খেলেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। এর জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চাও প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, মাছ পুষ্টিকর ও সহজলভ্য একটি খাবার, যা সুষম খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী মাছের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। মাছ ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের মাছের পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা পাওয়া যায়।

Advertisements