মাঝেমধ্যে কিছু না করে সময় কাটানো জরুরি, জেনে নিন কারণ

‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’— কোনও কাজ না করে শুয়ে-বসে থাকা। সব সময়ে ব্যস্ত থাকেন কিংবা কোনও না কোনও কাজ করতে থাকেন? এই ব্যস্ততা থেকে বেরিয়ে এসে একটু থামা এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটানোই হলো ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’।
ব্যস্ত জীবনযাত্রা সবাই সারাক্ষণ ছুটছেন। সারাদিনে কাজের তালিকা যেন শেষই হচ্ছে না। কর্মব্যস্ত দিন কাটানোর পর মনে হচ্ছে সারাদিন কিছুই করা হলো না। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মাঝেমধ্যে কিছু না করে বসে থাকা দরকার। একেই বলা হয় ‘দ্য আর্ট অফ ডুইং নাথিং’। এর অর্থ হচ্ছে কোনও লক্ষ্য ছাড়া, ফোন ছাড়া, শুধু বসে থাকা, জানালা দিয়ে আকাশ দেখা, বা বিছানায় শুয়ে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে থাকা। এতে যেসব উপকারিতা হয়-
মানসিক চাপ কমে
টানা কাজ করলে আমাদের মস্তিষ্কে কর্টিসল হরমোন বাড়ে, যা মানসিক চাপ বাড়ায়। যখন আপনি ইচ্ছা করে ১৫-২০ মিনিট কিছুই করবেন না, তখন মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মুড নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় হয়। শরীর প্যারাসিমপ্যাথেটিক মোডে চলে যায়। এতে হৃৎস্পন্দন কমে, মাংসপেশি রিল্যাক্স হয়। মাসে ১-২ বার নয়, সপ্তাহে ২-৩ বার এই বিরতি নেওয়াটা খুবই জরুরি।
সৃজনশীলতা বা ক্রিয়েটিভিটি বাড়ে
ব্যস্ততার সময়, মস্তিষ্ক শুধু ‘কাজ শেষ করা’ নিয়ে ভাবে। নতুন কিছু ভাবার অবকাশ পায় না। কিন্তু যখন আপনি এমনিই বসে থাকেন, তখন মস্তিষ্ক এলোমেলো ভাবনাগুলোকে জুড়তে শুরু করে। এ কারণে অনেক সময় গোসল করতে করতে বা জানালার ধারে বসে থাকার সময় আসে ভালো আইডিয়াগুলো মাথায় আসে।
আরও যেসব উপকারিতা হয়
সারাক্ষণ নোটিফিকেশন, রিল স্ক্রল করে আমাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ কিছু না করলে মস্তিষ্ক আবার ফোকাস করতে শেখে। পড়াশোনা বা কাজে মন বসে। মনোযোগ আসে। অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকলে আমরা রাগ, কষ্ট চেপে রাখি। ফাঁকা সময়ে নিজের অনুভূতিগুলোকে চিনতে পারা যায়। কেন মন খারাপ, তা বুঝা যায়। রাতে শোয়ার আগে ফোন ঘাটাঘাটি না করে ১০ মিনিট শুধু শুয়ে থাকলে মেলাটোনিন হরমোন ভালোভাবে কাজ করে। তখন ঘুম গভীর হয়।
কীভাবে করবেন?
দিনে ১৫ মিনিট ফোন, ল্যাপটপ, বই সব দূরে রাখুন। কোনও গান নয়, পডকাস্ট নয়, শুধু বসে থাকুন। প্রথমে অস্বস্তি লাগবে, মনে হবে সময় নষ্ট হচ্ছে। এটাকে বলা হয় জোমো বা ‘জয় অব মিসিং আউট’। সবকিছু থেকে ইচ্ছা করে মিস করে যাওয়ার আনন্দ। মনে রাখবেন, কিছু না করা মানে অলসতা নয়। এটি নিজেকে রিচার্জ করা। এতে নিজের শরীর-মন ভালো থাকবে।
সূত্র: এশিয়াননেট



