২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১২ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

image-383567-1744712969

দেশের বাজারে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিগুলো।

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বর্তমানে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা থেকে বেড়ে ২১৮ টাকা হবে। একইভাবে পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা হতে পারে।

তবে কোম্পানিগুলোর এই প্রস্তাবে এখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মেলেনি। ফলে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত নয়।

দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কেন?

সয়াবিন তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারমূল্য সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

Advertisements

সংগঠনটির নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ছয় মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতি টন কাঁচামালের দাম ১ হাজার ৩০০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩২৫ ডলারে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দর অনুযায়ী ব্যয় হিসাব করলে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২৩৩ টাকা দাঁড়ায় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সর্বশেষ দাম বেড়েছিল সেপ্টেম্বরে

দেশের বাজারে সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এবার কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব কার্যকর হলে ভোক্তাদের এক লিটার বোতলজাত তেল কিনতে আগের তুলনায় ১৪ টাকা বেশি খরচ করতে হবে। পাঁচ লিটারের বোতলে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৭০ টাকা। রান্নার নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বাড়লে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজার খরচেও চাপ বাড়তে পারে।

সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কোম্পানিগুলোর

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনে পাঠানো চিঠিতে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো আরও জানিয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর মূল্য সমন্বয়ের সময় সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আবার দাম পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় লোকসান দিয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

কোম্পানিগুলোর আশঙ্কা, দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত না এলে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা জানিয়েছে তারা।

তবে দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বর্তমান নির্ধারিত মূল্যই প্রযোজ্য থাকবে। প্রস্তাবিত মূল্য কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

Advertisements