২৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১২ কার্তিক ১৪৩৩
নারী

আজ কালো বিড়াল দিবস

images (44)

কালো বিড়াল রাস্তা পার হলে দুর্ভাগ্য নেমে আসে—এমন ধারণা বহুদিন ধরেই প্রচলিত রয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে। তবে বিড়ালের গায়ের রঙের সঙ্গে মানুষের ভাগ্য কিংবা অমঙ্গলের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। প্রচলিত এসব ভুল ধারণা দূর করা এবং কালো বিড়ালের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে প্রতি বছর ২৭ অক্টোবর পালিত হয় কালো বিড়াল দিবস।

যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে দিনটি কালো বিড়াল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কালো বিড়ালের সৌন্দর্য ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা এবং শুধু গায়ের রঙের কারণে তাদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে যেন কেউ পিছিয়ে না থাকেন, সে বিষয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কালো বিড়ালকে ঘিরে নানা ধরনের কুসংস্কার গড়ে উঠেছে। ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় কালো বিড়ালকে অশুভ শক্তি, জাদুবিদ্যা কিংবা দুর্ভাগ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। কোথাও কালো বিড়াল সামনে দিয়ে চলে গেলে অমঙ্গল ঘটতে পারে বলে বিশ্বাস করা হতো। এসব ধারণা লোককাহিনি, গল্প এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে পৃথিবীর সব সংস্কৃতিতে কালো বিড়ালকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না। কিছু সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসে কালো বিড়ালকে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি কিংবা সুরক্ষার প্রতীক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, এই প্রাণীকে ঘিরে মানুষের ধারণা অঞ্চল, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভেদে আলাদা। কিন্তু এসব বিশ্বাসের কোনোটিই বিড়ালের গায়ের রং দিয়ে তার ভাগ্য নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নয়।

বাস্তবে বিড়ালের গায়ের রং তার স্বভাব, আচরণ কিংবা মানুষের প্রতি ভালোবাসার ক্ষমতা নির্ধারণ করে না। প্রতিটি বিড়ালের ব্যক্তিত্ব আলাদা। কোনোটি শান্ত স্বভাবের, কোনোটি চঞ্চল, আবার কোনোটি মানুষের সঙ্গ বেশি পছন্দ করে। তাই শুধু কালো রঙের কারণে একটি বিড়ালকে অন্য বিড়ালের তুলনায় কম আকর্ষণীয় বা কম উপযুক্ত মনে করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।

কালো বিড়ালকে ঘিরে সচেতনতা তৈরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তাদের দত্তক নেওয়ার প্রবণতা। যুক্তরাজ্যের প্রাণীকল্যাণমূলক দাতব্য সংস্থা ক্যাটস প্রোটেকশন কালো বিড়াল দিবস চালুর সঙ্গে যুক্ত। সংস্থাটির উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো কালো বিড়ালকে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা এবং তাদের সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা।

Advertisements

অনেক সময় গায়ের রং, কুসংস্কার কিংবা সামাজিক ধারণার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কালো বিড়ালগুলো সম্ভাব্য দত্তক গ্রহণকারীদের নজর এড়িয়ে যায়। অথচ অন্য বিড়ালের মতো তাদেরও প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়, পুষ্টিকর খাবার, চিকিৎসা এবং স্নেহপূর্ণ পরিবেশ। একটি প্রাণীর জীবন ও সুস্থতার সঙ্গে তার গায়ের রঙের কোনো সম্পর্ক নেই।

কালো বিড়াল দিবস উপলক্ষে প্রাণীপ্রেমীরা বিভিন্নভাবে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। কেউ পোষা কালো বিড়ালের ছবি ও অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিতে পারেন। কেউ আবার প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারেন কিংবা অসহায় বিড়ালের খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করতে পারেন।

যাঁরা নতুন করে পোষা প্রাণী নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁরা দত্তক নেওয়ার সময় শুধু গায়ের রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রাণীটির স্বাস্থ্য, স্বভাব এবং নিজের যত্ন নেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করতে পারেন। আর যাঁদের পক্ষে পোষা প্রাণী রাখা সম্ভব নয়, তাঁরাও পথের বিড়ালকে খাবার ও পরিষ্কার পানি দেওয়া কিংবা অসুস্থ প্রাণীকে চিকিৎসা পেতে সহায়তা করার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারেন।

তবে শুধু একটি দিবসে সচেতনতা প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পোষা ও পথের বিড়ালের প্রতি সারা বছরই সহানুভূতিশীল আচরণ করা জরুরি। প্রাণীকে ভয় দেখানো, আঘাত করা কিংবা কুসংস্কারের কারণে অবহেলা করার পরিবর্তে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

কালো বিড়াল দিবসের মূল বার্তা হলো, গায়ের রং কিংবা প্রচলিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো প্রাণীকে বিচার করা উচিত নয়। প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে যত্ন, নিরাপত্তা ও ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার। কুসংস্কার দূরে সরিয়ে সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা করলেই কালো বিড়ালসহ সব প্রাণীর জন্য আরও নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

Advertisements