সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য মাথা-ভ্রু কামিয়েছিলেন মা, স্মৃতিচারণায় গোবিন্দ

পরিবারের কঠিন সময়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দের মা নির্মলা দেবী। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে একসময় নিজের মাথার চুল ও ভ্রু কামিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এমনকি সাধুর মতো পোশাক পরতেও শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মায়ের জীবনের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণা করেছেন অভিনেতা।
এবিপি নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় গোবিন্দ জানান, জীবনের এক পর্যায়ে তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। সেই সময় সংসার চালানো এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা ছিল তার মায়ের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি নির্মলা দেবী।
অভিনেতার বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় তার বাবা মাকে বাইরে গিয়ে কাজ খোঁজার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। নির্মলা দেবী অত্যন্ত সুন্দরী হওয়ায় কাজের সন্ধানে বাইরে গেলে কিছু মানুষ তাকে অসৎ উদ্দেশ্যে কাছে টানার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন গোবিন্দের বাবা। সেই সতর্কতার পর নিজের চেহারায় পরিবর্তন আনেন নির্মলা দেবী। তিনি মাথার চুল ও ভ্রু কামিয়ে ফেলেন এবং সাধুর মতো পোশাক পরতে শুরু করেন।
গোবিন্দের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে, পরিবারের সংকট মোকাবিলা করতে তার মা নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে সন্তানদের আগলে রাখতে হয়, তাঁর মায়ের জীবন সেই উদাহরণ হয়ে রয়েছে অভিনেতার কাছে।
মায়ের শিক্ষা বদলে দিয়েছে গোবিন্দের দৃষ্টিভঙ্গি
মায়ের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা গোবিন্দের চিন্তাভাবনা ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অভিনেতা জানান, অন্যের সমালোচনা কিংবা কে তাকে নিয়ে কী বলল, তা নিয়ে তিনি খুব বেশি চিন্তা করেন না। জীবনের কঠিন সময়ে তার মা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই অভিজ্ঞতার পর মানুষের মন্তব্যকে অতটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না তিনি।
গোবিন্দের কথায়, এমন একজন মায়ের সন্তান হয়ে অন্যের কথাবার্তা কিংবা কে কী দিল, তা নিয়ে কেন ভাববেন? এসব বিষয়কে তিনি নিজের জীবনের প্রধান বিবেচ্য বলে মনে করেন না। তার কাছে জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের প্রকৃত অবস্থাটা বোঝা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষের আচরণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও গোবিন্দ পরিস্থিতি বোঝার ওপর জোর দেন। তার মতে, কেউ কেন একটি নির্দিষ্ট আচরণ করছেন, তা না জেনে তাকে বিচার করা উচিত নয়। অনেক সময় মানুষের আচরণের পেছনে এমন কিছু কারণ থাকে, যা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হয় না।
অভিনেতা মনে করেন, মানুষের প্রতিক্রিয়া তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সময় এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই কাউকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করার আগে তার অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। মানুষের জীবনে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা থাকতে পারে, যা তার আচরণকে প্রভাবিত করে।
গোবিন্দের মা নির্মলা দেবী শুধু একজন ত্যাগী মা হিসেবেই নন, নিজের কর্মজীবনের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন সুপরিচিত শিল্পী ও অভিনেত্রী ছিলেন। শিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও সন্তানদের জীবনে তাঁর আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি গোবিন্দের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
নির্মলা দেবী ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন ৬৯ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর বহু বছর পরও মায়ের জীবনসংগ্রাম, সন্তানদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং কঠিন পরিস্থিতিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো গোবিন্দের স্মৃতিতে অমলিন।



