২৭ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ১১ কার্তিক ১৪৩৩
বিনোদন

৪৮ বছরেও বিয়ে করেননি কাজলের বোন তনিশা, কেন সংরক্ষণ করেছিলেন ডিম্বাণু? কারণ জানালেন

6aa92ab22f1eb

বয়স বাড়ছে, অথচ বিয়ে হয়নি—সমাজের চোখে এমন পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও নিজের জীবন নিজের মতো করে সাজাতে চান অভিনেত্রী তনিশা মুখোপাধ্যায়। বলিউড অভিনেত্রী কাজলের বোন তনিশা এখনও অবিবাহিত। তবে ভবিষ্যতে মা হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে বন্ধ করে দিতে চাননি তিনি। সেই ভাবনা থেকেই ৩৯ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, বিয়ে এবং মাতৃত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি।

তনিশার মতে, বিয়ে শুধুমাত্র সামাজিক নিয়ম মেনে সম্পন্ন করার মতো কোনও বিষয় নয়। বরং এটি দু’জন মানুষের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার বন্ধন। তাই শুধুমাত্র বয়স বেড়ে যাচ্ছে কিংবা সমাজ বিয়ে ও সন্তানধারণের জন্য চাপ দিচ্ছে—এই কারণে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি।

বিয়ের তাড়াহুড়ো নয়, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি

৩৯ বছর বয়সে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে কয়েক বছর সময় নিয়েছিলেন তনিশা। অভিনেত্রীর বক্তব্য, উপযুক্ত জীবনসঙ্গীর খোঁজে তাড়াহুড়ো করতে চাননি তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মাতৃত্বের সম্ভাবনাও খোলা রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, বিয়ে করে দ্রুত সন্তান নিতে হবে—এমন মানসিক চাপ নিজের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। জীবনে সঠিক মানুষের সঙ্গে পরিচয় না হলে শুধুমাত্র বয়সের কারণে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নন তিনি। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই ডিম্বাণু সংরক্ষণের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

মা হতে গেলে পাশে চাই দায়িত্বশীল সঙ্গী

মাতৃত্ব নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তনিশা। তাঁর মতে, একটি শিশুকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে মা ও বাবা দু’জনেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সন্তানকে পৃথিবীতে আনার পাশাপাশি তার বেড়ে ওঠা, যত্ন এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতাও থাকা প্রয়োজন।

Advertisements

তাই এমন একজন জীবনসঙ্গী চান অভিনেত্রী, যিনি সন্তানের দায়িত্ব সমানভাবে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত থাকবেন। উপযুক্ত সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র মা হওয়ার জন্য সন্তানধারণ করতে চান না তিনি। তনিশার বক্তব্যে আরও স্পষ্ট, মাতৃত্ব মানেই যে সন্তান জন্ম দিতে হবে, এমন ধারণায় বিশ্বাসী নন তিনি। ভবিষ্যতে তাঁর ভাবনা বদলাতেও পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেকে বেঁধে রাখতে চান না অভিনেত্রী।

সম্পর্ক ভেঙেছে, তবু সিদ্ধান্তে আপস নয়

তনিশার প্রেমজীবনও একসময় সংবাদমাধ্যমের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। অভিনেতা উদয় চোপড়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে একসময় আলোচনা হয়েছিল। তাঁদের বিচ্ছেদের পর তনিশা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। পরে ২০১৩ সালে রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ৭’-এ অংশ নেওয়ার সময় অভিনেতা অরমান কোহলীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা দর্শকদের নজর কাড়ে। শো শেষ হওয়ার পরেও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা চলতে থাকে। তবে ২০১৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে। পরে তনিশা জানিয়েছিলেন, দু’জনের চিন্তাভাবনা ও মতের অমিল তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল।

বয়স নয়, নিজের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ

ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার পরেও বিয়ে কিংবা মাতৃত্ব নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশাকে নিজের সিদ্ধান্তের মাপকাঠি করতে চান না তনিশা। তাঁর ভাবনায়, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নিজের ইচ্ছা, মানসিক প্রস্তুতি এবং পরিস্থিতি বুঝে। ডিম্বাণু সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি বিকল্প খোলা রাখলেও মা হওয়া নিয়ে এখনই কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চান না অভিনেত্রী। তাঁর এই অবস্থান বিয়ে, মাতৃত্ব এবং নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যতে সন্তানধারণের নিশ্চয়তা দেয় না। এটি সম্ভাবনা ধরে রাখার একটি চিকিৎসাপদ্ধতি মাত্র। তনিশার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের জীবন ও মাতৃত্বের সময় নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখা।

Advertisements