২৬ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১০ কার্তিক ১৪৩৩
বিশ্ব

মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টা পর মর্গে জীবিত শিশু, কী ঘটেছিল হাসপাতালে?

HVMFOKBXEAA2vPI

একটি দুর্ঘটনা, হাসপাতালের মৃত্যুঘোষণা, শোকাহত পরিবারের অসহায় অপেক্ষা—এরপর এমন এক ঘটনা, যা বিশ্বাস করাই কঠিন। ১৮ মাসের এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করার পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় পর হাসপাতালের মর্গে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির নাম ভিনসেন্ট ফিওরডিলিনো। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থা ও রোগীকে পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

পুলে ডুবে যাওয়ার পর হাসপাতালে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পরিবারের সুইমিং পুলে ডুবে যায় ছোট্ট ভিনসেন্ট। অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত অ্যারিজোনার মার্সি গিলবার্ট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সন্তানের মৃত্যুসংবাদ যে কোনো মা-বাবার জন্য অসহনীয়। ভিনসেন্টের মা অ্যালেক্সাস ফিওরডিলিনোর কাছেও মুহূর্তটি ছিল গভীর শোকের। চিকিৎসকেরা যখন জানিয়ে দিলেন তাঁর সন্তান আর বেঁচে নেই, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি ভেঙে পড়েন। কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল না।

অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছে। রোগীর গোপনীয়তার কথা জানিয়ে তারা চিকিৎসার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। চিকিৎসকের আইনজীবীও চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। পুলিশের তদন্তে চিকিৎসাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল বলে এবিসি১৫ জানিয়েছে।

চিকিৎসাব্যবস্থার সামনে বড় প্রশ্ন

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের দুর্ভাগ্যজনক অভিজ্ঞতা নয়; এটি জরুরি চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা নির্ধারণ, পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বও সামনে নিয়ে এসেছে। একজন রোগীকে মৃত ঘোষণা করার মতো গুরুতর সিদ্ধান্তে যথাযথ পরীক্ষা ও সতর্কতা কতটা জরুরি, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি শিশুর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, ভিনসেন্টের ঘটনা তার মর্মান্তিক উদাহরণ। তবে ঠিক কী কারণে এমন ভুল হয়েছিল এবং মর্গে কাটানো সময় তার শারীরিক ক্ষতির কতটা কারণ—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রমাণের ওপর নির্ভর করছে।

Advertisements

ভিনসেন্টের গল্পে তাই স্বস্তি আছে, আছে গভীর বেদনাও। মৃত্যুর ঘোষণা শুনে সন্তানকে বিদায় জানানোর পর তাকে জীবিত ফিরে পাওয়া এক মায়ের কাছে যেমন অবিশ্বাস্য, তেমনি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এক কঠিন বাস্তবতা। এই ঘটনার শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন একটাই—একটি শিশুর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, আর সেই ঘটনার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কি না?

Advertisements