২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ৯ কার্তিক ১৪৩৩
ধর্ম

হজের টাকা জমিয়েছেন, আগে বিয়ে নাকি হজ—ইসলাম কী বলে?

Huge (86)_2

হজ ও বিয়ে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর হজ ফরজ। অন্যদিকে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিয়ে সুন্নত; তবে বিয়ে না করলে হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল হলে ব্যক্তির অবস্থাভেদে বিয়ে ওয়াজিব হতে পারে। তাই কারও কাছে হজের টাকা জমা থাকলেও বিয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে কোনটি আগে করা উচিত, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য, বিয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং হজের প্রস্তুতির সময়সীমা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

হজ ফরজ হওয়ার শর্ত কী?

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ ঘরের হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)

হজের আর্থিক সামর্থ্য বলতে শুধু যাতায়াতের খরচ থাকা বোঝায় না। হজে যাওয়া-আসার ব্যয় বহনের পাশাপাশি নিজের ও নির্ভরশীল পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচের ব্যবস্থা থাকাও বিবেচ্য।

ইসলামে হজের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ করল এবং অশ্লীল কথা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকল, সে এমনভাবে ফিরে আসে, যেন তার মা তাকে সদ্য প্রসব করেছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫২১)

হজের টাকা দিয়ে আগে বিয়ে করা যাবে?

ইসলামি ফিকহের আলোচনায় এ বিষয়ে হজের প্রস্তুতির সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। ফাতাওয়া হিন্দিয়ার উদ্ধৃত মত অনুযায়ী, হজের প্রস্তুতির শেষ সময় আসার আগে কেউ বিয়ে করে ফেললে এবং সেই বিয়ের খরচে হজের জন্য জমানো অর্থ ব্যয় হয়ে গেলে, ওই অর্থের ভিত্তিতে তার ওপর হজ ফরজ নাও হতে পারে।

Advertisements

অন্যদিকে, হজের প্রস্তুতির নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অর্থ অক্ষত থাকলে এবং হজ ফরজ হওয়ার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে তার ওপর হজ আদায় করা আবশ্যক হয়ে যেতে পারে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যা বিবেচনা করবেন

  • বিয়ের প্রয়োজনীয়তা: বিয়ে না করলে গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কতটা, তা বিবেচনা করতে হবে।
  • আর্থিক সামর্থ্য: হজের ব্যয় মেটানোর পর নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ চালানোর সামর্থ্য আছে কি না, তা দেখতে হবে।
  • হজের সময়সীমা: হজের প্রস্তুতি ও অর্থ ব্যয়ের সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধান বিবেচনা করতে হবে।

সুতরাং, হজের টাকা জমা থাকলেই সব পরিস্থিতিতে বিয়ের আগে হজ করতে হবে, কিংবা বিয়ের জন্য সেই টাকা খরচ করলেই হজের দায়িত্ব থাকবে না—এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান ভিন্ন হতে পারে। নিজের অবস্থা বিস্তারিত জানিয়ে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

Advertisements