২১ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ৫ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

উৎসবের পর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পান করতে পারেন যে ৩ ধরনের চা

fd195c41-f4aa-48ea-82ac-2554f5f3df02

উৎসব মানেই নানা পদের খাবারের আয়োজন। পূজার দিনগুলোতে লুচি, বিরিয়ানি, মিষ্টি, আইসক্রিম কিংবা ভাজাপোড়া খাওয়ার সুযোগ অনেকেই ছাড়তে চান না। কয়েক দিন নিয়মের বাইরে খাওয়াদাওয়া করার পর কারও কারও ওজন বাড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত লবণ ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের কারণে শরীরে সাময়িকভাবে পানিও জমতে পারে। তাই উৎসব শেষ হলে হঠাৎ কঠোর ডায়েট শুরু না করে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসাই ভালো।

সংগৃহীত

ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর পাশাপাশি চিনি ছাড়া কিছু চা পানীয়ের বিকল্প হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে শুধু চা পান করলেই শরীরের অতিরিক্ত মেদ গলে যাবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আদা, দারুচিনি কিংবা গ্রিন টি দিয়ে তৈরি পানীয় স্বাস্থ্যকর রুটিনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় ভাবা ঠিক নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণের রুটিনে রাখতে পারেন যে চা

১. আদা ও লেবুর চা

আদা দিয়ে তৈরি চা অনেকের কাছে পরিচিত একটি পানীয়। এর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস যোগ করলে স্বাদে আসে ভিন্নতা। উৎসবের পর মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে এই চা বেছে নিতে পারেন।

সংগৃহীত

যা যা লাগবে:

  • ১ ইঞ্চি আদা কুচি
  • ১ কাপ পানি
  • ১ চা-চামচ লেবুর রস
  • চাইলে সামান্য মধু

যেভাবে তৈরি করবেন:

এক কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে কিছুটা ঠান্ডা হলে লেবুর রস মেশান। স্বাদের জন্য মধু দিতে পারেন, তবে মনে রাখবেন, মধুতেও ক্যালরি ও চিনি রয়েছে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে মধু না দেওয়াই ভালো।

Advertisements

আদা নিয়ে কিছু গবেষণায় হজম ও বিপাকসংক্রান্ত সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। তবে আদা-লেবুর চা সরাসরি শরীরের মেদ কমায়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাদের লেবু খেলে অস্বস্তি বাড়ে কি না, তা খেয়াল রাখা উচিত।

২. জিরা ও দারুচিনির চা

রান্নায় ব্যবহৃত জিরা ও দারুচিনি দিয়ে সহজেই সুগন্ধি পানীয় তৈরি করা যায়। যারা চিনি দেওয়া চায়ের বিকল্প খুঁজছেন, তারা এই পানীয়টি চেষ্টা করতে পারেন।

সংগৃহীত

যা যা লাগবে:

  • আধা চা-চামচ জিরা
  • দারুচিনির একটি ছোট টুকরা
  • ১ কাপ পানি

যেভাবে তৈরি করবেন:

এক কাপ পানিতে জিরা ও দারুচিনি দিয়ে পাঁচ থেকে সাত মিনিট হালকা আঁচে ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে কুসুম গরম অবস্থায় পান করুন। চাইলে উপকরণ দুটি কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখেও তৈরি করতে পারেন।

দারুচিনি ও জিরা নিয়ে বিপাক এবং রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এসব উপাদানের চা পান করলেই দ্রুত চর্বি গলে যায়, এমন প্রমাণ নেই। দারুচিনি অতিরিক্ত পরিমাণে বা দীর্ঘদিন বেশি খাওয়া ঠিক নয়, বিশেষ করে ক্যাসিয়া দারুচিনিতে থাকা কুমারিনের কারণে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি থাকতে পারে। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৩. গ্রিন টি ও পুদিনার চা

গ্রিন টি ও পুদিনা দিয়ে তৈরি পানীয় হালকা ও সতেজ স্বাদের। চিনি ছাড়া পান করলে এটি মিষ্টি চা বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত পানীয়ের ভালো বিকল্প হতে পারে।

সংগৃহীত

যা যা লাগবে:

  • ১টি গ্রিন টি ব্যাগ অথবা ১ চা-চামচ গ্রিন টি পাতা
  • ৪–৫টি পুদিনা পাতা
  • ১ কাপ গরম পানি

যেভাবে তৈরি করবেন:

এক কাপ গরম পানিতে গ্রিন টি ও পুদিনা পাতা দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর চা ছেঁকে পান করুন। গ্রিন টি বেশি সময় ভিজিয়ে রাখলে স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে।

গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যাফেইন থাকে। কিছু গবেষণায় এগুলোর সঙ্গে শক্তি ব্যয় ও ওজন নিয়ন্ত্রণের সামান্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর প্রভাব সীমিত, আর শুধু গ্রিন টি পান করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন কমানোর আশা করা ঠিক নয়। এতে ক্যাফেইন থাকায় রাতে পান করলে কারও কারও ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

উৎসবের পর ওজন নিয়ন্ত্রণে আরও যা করবেন

ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো বিশেষ পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ বা অন্যান্য প্রোটিনের উৎস রাখুন। অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।

সকালে খালি পেটে চা পান করতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। দিনের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে চা খেতে পারেন। চা যেন সুষম খাবারের বিকল্প না হয়ে যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।

উৎসবের পর ওজন কিছুটা বেড়ে গেলে দুশ্চিন্তা করে না খেয়ে থাকা বা কঠোর ডায়েট শুরু করার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরুন। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।

Advertisements