১৯ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শিক্ষা

জিপিএ উন্নয়ন থেকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী—২০২৭ সালের এসএসসি নিয়ে বোর্ডের নির্দেশনা

images

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ফরম পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম পূরণ করতে না পারা শিক্ষার্থীরা বিলম্ব ফি দিয়ে ২৪ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী, জিপিএ উন্নয়ন, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নবায়ন, পাঠ্যসূচি এবং নির্বাচনি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। অন্যদিকে, ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তবে কোনো অবস্থাতেই তাদের নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নেওয়া যেসব শিক্ষার্থী চতুর্থ বিষয় বাদে এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এসব শিক্ষার্থী অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে শুধু অকৃতকার্য বিষয় বা বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে পারবে। চাইলে তারা সব বিষয়েও অংশ নিতে পারবে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় বাদে এক থেকে তিন বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি অথবা পরীক্ষায় অংশ নিয়েও আবার এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। তারা আগের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে যারা আংশিক বিষয়ে পরীক্ষা দিতে চায়, তারা চতুর্থ বিষয়ে অংশ নিতে পারবে না।

যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রেখেছে শিক্ষা বোর্ড। ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং চতুর্থ বিষয় বাদে এখনো মাত্র একটি বিষয়ে অকৃতকার্য রয়েছে, তারা বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এক বছরের জন্য নবায়ন করতে পারবে। এ সুযোগে তারা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে অংশ নিতে পারবে।

Advertisements

রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফরম পূরণের আগে শিক্ষার্থীর মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিয়ে নবায়ন করা রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারবে।

বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্ট (জিপি) সংরক্ষণ করা হবে। ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্টের সঙ্গে আগে উত্তীর্ণ বিষয়গুলোর সংরক্ষিত গ্রেড পয়েন্ট যোগ করে চূড়ান্ত জিপিএ নির্ধারণ করা হবে। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীদের আগের উত্তীর্ণ বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, যদি তারা আংশিক বিষয়ে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

জিপিএ উন্নয়নের সুযোগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলেও যেসব শিক্ষার্থী জিপিএ-৫-এর কম পেয়েছে, তারা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ উন্নয়নের জন্য অংশ নিতে পারবে। তবে তাদের সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে এবং ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুসরণ করতে হবে।

জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম থাকবে। ২০২৭ সালের পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলে জিপিএ উন্নতি হলে নতুন ফলাফল গ্রহণ করা হবে। আর উন্নতি না হলে আগের জিপিএ বহাল থাকবে। এ জন্য ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীকে আগের পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি প্রিন্ট করা ফরমের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ রয়েছে, তারা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবে। তবে তাদের সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা নিয়েও নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নিবন্ধিত যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২০২৭ সালে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। অন্যদিকে, একই শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু এক থেকে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় আগের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা পাবে।

পাঠ্যসূচির বিষয়ে বোর্ড জানিয়েছে, অনিয়মিত ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে হবে। অন্যদিকে, নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুসরণ করতে হবে।

সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। পরে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর যুক্ত করে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে। পাশাপাশি ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মূল নম্বরপত্রের হাতে লেখা কপি মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় সরাসরি জমা দিতে হবে।

নির্বাচনি পরীক্ষার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী এবং আগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের ছাড়া অন্য সব শিক্ষার্থীর জন্য নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। ফলে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফরম পূরণের সময়সূচি, প্রযোজ্য ফি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অনিয়মিত, জিপিএ উন্নয়ন ও রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নবায়ন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বোর্ডের নির্দেশনায় উল্লেখিত শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

Advertisements