স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী ‘কালো দুধ’, বানানোর পদ্ধতিও সহজ

সাধারণ দুধের বাইরে নতুন কিছু খুঁজছেন? কালো তিল, কাজুবাদাম ও খেজুর দিয়ে তৈরি ‘ব্ল্যাক মিল্ক’ হতে পারে ভিন্ন স্বাদের একটি পুষ্টিকর পানীয়। সহজ কয়েকটি উপকরণেই ঘরে তৈরি করা যায় এটি। তবে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানোর দাবি কতটা সত্য, তা জানাও জরুরি।
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে নতুন নতুন খাবার ও পানীয় নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে ‘ব্ল্যাক মিল্ক’ বা কালো দুধ। গাঢ় রঙের এই পানীয় তৈরি হয় কালো তিল, কাজুবাদাম ও খেজুরের মিশ্রণে। দেখতে যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি উপকরণগুলোর কারণে এতে পাওয়া যায় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। অনেকে মনে করেন, এই পানীয় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে কালো দুধ পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হবে—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পানীয়টি পুষ্টির জোগান দিতে পারে।
ঘরেই বানিয়ে নিন কালো দুধ
কালো দুধ তৈরি করতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই সহজে বানানো সম্ভব।
যা যা লাগবে
কালো তিল: ১ বাটি
কাজুবাদাম: ১ বাটি
খেজুর: ৬–৭টি
লবণ: সামান্য
পানি: প্রয়োজনমতো
তৈরির পদ্ধতি
প্রথমে একটি শুকনো কড়াইয়ে কালো তিল হালকা আঁচে ভেজে নিন। তিল থেকে সুগন্ধ বের হলে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। খেয়াল রাখবেন, তিল যেন পুড়ে না যায়। পুড়ে গেলে পানীয়ের স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে।
এরপর ব্লেন্ডারে ভাজা তিল, কাজুবাদাম, বিচি ছাড়ানো খেজুর, সামান্য লবণ ও প্রয়োজনমতো পানি দিন। সব উপকরণ ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিহি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি পাতলা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে তরল অংশ আলাদা করে নিন। তৈরি হয়ে যাবে কালো দুধ। চাইলে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করেও পান করতে পারেন। ঘন বা পাতলা করার জন্য পানির পরিমাণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। ছেঁকে নেওয়ার পর অবশিষ্ট তিল ও বাদামের মিশ্রণ ফেলে না দিয়ে রুটি, পিঠা কিংবা অন্য কোনো খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কালো দুধে কী কী পুষ্টি রয়েছে?
কালো তিল: এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালশিয়াম, আয়রন ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
কাজুবাদাম: স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, কপার ও জিঙ্কের মতো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় কাজুবাদামে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
খেজুর: প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজের উৎস খেজুর। পানীয়তে এটি ব্যবহার করলে আলাদা চিনি না দিয়েও মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। তবে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় পরিমাণের বিষয়ে সচেতন থাকা ভালো।
এই উপাদানগুলোর পুষ্টিগুণের কারণে কালো দুধ খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে পারে। তবে পানীয়টি ছেঁকে নিলে কিছু ফাইবার ও অন্যান্য উপাদান অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে।
ত্বক উজ্জ্বল করতে কি সত্যিই কার্যকর?
ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পর্যাপ্ত পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো একটি খাবার বা পানীয় খেলেই ত্বকের রং বদলে যাবে কিংবা ঔজ্জ্বল্য নিশ্চিতভাবে বাড়বে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ত্বক সুস্থ রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম এবং ত্বকের উপযোগী পরিচর্যা জরুরি। দিনের বেলায় সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা পেতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উপকারী।
পান করার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
কালো তিল বা কাজুবাদামে অ্যালার্জি থাকলে এই পানীয় এড়িয়ে চলুন। খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় ডায়াবেটিস থাকলে নিজের খাদ্যপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো। পানীয় তৈরির সময় পরিষ্কার উপকরণ ব্যবহার করুন এবং তৈরি করার পর ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
কালো দুধ কোনো জাদুকরি স্বাস্থ্যপানীয় নয়। তবে উপকরণগুলোর পুষ্টিগুণের কারণে এটি সুষম খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে। নতুন স্বাদের পানীয় হিসেবে একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন- ত্বকের পরিবর্তনের নিশ্চয়তা হিসেবে নয়, বরং বৈচিত্র্যময় খাবারের একটি বিকল্প হিসেবে।



