পাখির খাবার দিয়ে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা, দেখতে ভিড় নাটোরে

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সোনালি আভায় মোড়ানো দেবী দুর্গার প্রতিমা। কাছে গেলে দেখা যাবে, প্রতিমার শরীরজুড়ে সাজানো রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট শস্যদানা। প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে বিদেশে উৎপাদিত মিলেটের দানা দিয়ে প্রতিমা সাজিয়ে এবার ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে নাটোরের একটি দুর্গামন্দির। অভিনব এই শিল্পকর্ম ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নাটোর শহরের উত্তর আলাইপুর নতুনপাড়া দুর্গামন্দিরে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। সেখানে মাটির তৈরি প্রতিমার গায়ে যত্নসহকারে বসানো হচ্ছে শুকনো মিলেটের দানা। সম্পূর্ণ কাজটি করতে প্রায় ৪০ কেজি শস্যদানা ব্যবহার করা হয়েছে। শস্যদানার সুনিপুণ বিন্যাসে প্রতিমাটি পেয়েছে ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয় রূপ।
নাটোরে দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে নতুন উপকরণ ব্যবহারের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ধান, পাটের আঁশ, মুগ ডাল, ভুট্টা ও সাবুদানা দিয়ে তৈরি প্রতিমা মানুষের নজর কেড়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মিলেটের দানা ব্যবহার করে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমার শরীরে ছোট ছোট শস্যদানা নিখুঁতভাবে বসানোর কাজটি যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনি এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও দক্ষতা। প্রতিটি দানা যথাযথভাবে স্থাপন করে প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। শস্যদানার সোনালি রং প্রতিমার সাজে এনে দিয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। এর মধ্যেই ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দর্শনার্থীদের বাড়তি আগ্রহের কারণ হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় উৎসবের আবহের পাশাপাশি শিল্পকর্মের অভিনবত্বও মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে শস্যদানা দিয়ে প্রতিমা সাজানোর এই উদ্যোগ নাটোরের দুর্গাপূজার আয়োজনকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। সৃজনশীলতা ও নিপুণ কারুকাজের সমন্বয়ে তৈরি মিলেটের দানার দুর্গাপ্রতিমা এবার শারদীয় উৎসবে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।



