১৭ অক্টোবর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ১ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলাদেশ

দুই দিনে কেজিতে আদার দাম বাড়ল ৬০ টাকা, চড়া সবজির বাজারও

ginger-garlic

রাজধানীর কাঁচাবাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চীনা আদার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত বুধবার ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া আদা শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকায়। আদার পাশাপাশি বেড়েছে পেঁয়াজ ও রসুনের দামও। অন্যদিকে, ডিমের দাম কিছুটা কমলেও চড়া রয়েছে সবজি, মুরগি, মাংস ও মাছের বাজার।

শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুল, নিউমার্কেট ও লালবাগের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

লালবাগের বিক্রেতা মো. ইউসুফ বলেন, ‘বুধবার আদা কিনেছি ১৩০ টাকা কেজি দরে, আর আজ কিনতে হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। তাও আবার ভেজা আদা। শুকিয়ে গেলে ওজন আরও কমে যাবে। তাহলে কীভাবে ব্যবসা করব?’

আদার দাম বাড়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইউসুফ বলেন, ‘এমন তো নয় যে আমদানি কমে গেছে। পাইকারি বাজারেও পণ্যের সরবরাহ কম দেখছি না। মাল পর্যাপ্ত আছে। তাহলে দাম বাড়বে কেন?’

বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও আদার দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়।

বেড়েছে পেঁয়াজ-রসুনের দাম

আদার পাশাপাশি পেঁয়াজ ও রসুনের দামও বেড়েছে। গত সোমবারের তুলনায় ক্রস জাতের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

Advertisements

শুক্রবার বাজারে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ও দেশি পেঁয়াজ—দুটিই মানভেদে প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, চীনা রসুনের দাম ছিল ১৮০ টাকা এবং দেশি রসুনের দাম ১০০ টাকা কেজি।

শীতের আগাম সবজি, দামও চড়া

বাজারে শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি ও মুলা উঠতে শুরু করেছে। তবে সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় এসব সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে টমেটোর দাম উঠেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ঝিঙা, কচুমুখী, পটোল, মুলা ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিতে ১০০ টাকা। আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।

প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির চড়া দামের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লালবাগের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, ‘শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও এখনো পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এ কারণে দাম বেশি। সরবরাহ বাড়লে ধীরে ধীরে দাম কমতে পারে।’

কমেছে ডিমের দাম, চড়া মুরগি ও মাংস

ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি ও অন্যান্য মাংসের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই।

সপ্তাহ দুয়েক আগে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে তা ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, হাঁসের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা।

বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, কক মুরগি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লালবাগের ডিম বিক্রেতা জসিম মিয়া বলেন, ‘আজ ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। এখন মূলত ডিমের দাম কমার কথা। কিন্তু এত দিন ধরে দাম বাড়তিই ছিল। শীত এলে আরও কমবে।’

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই

মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। আকার ও ওজনভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি কালিবাউশ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের বাড়তি দাম এবং শীতের আগাম সবজির চড়া বাজারে চাপে রয়েছেন ক্রেতারা। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।

Advertisements