১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি, অর্থের সংকট হবে না: প্রশাসক

8f668e3f6f2ffb525cf57a5bc14b739e-6ad1f616bec05

ডেঙ্গুর সংক্রমণ মোকাবিলায় ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ ক্ষেত্রে অর্থের কোনো সংকট হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে জরিমানা থেকে আদায় করা অর্থ রোগটিতে মারা যাওয়া অসচ্ছল ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

টিকা সংগ্রহে উদ্যোগ, প্রয়োজন জনসচেতনতা

অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এ বিষয়ে সবার দায়িত্বশীলতা বাড়িয়েছে। তবে শুধু সরকারি কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মশার বিস্তার রোধে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ বাসা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

ডেঙ্গুকে জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিরোধী দল এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেয়নি; বরং লং মার্চের মতো কর্মসূচির কারণে জনভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। রাজধানীর অন্যান্য সমস্যা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক হকার ও অটোরিকশা চলাচলের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চললেও এখনো এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জরিমানার অর্থ অসচ্ছল পরিবারকে দেওয়ার প্রস্তাব

Advertisements

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে আদায় করা জরিমানার অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো অসচ্ছল নাগরিকদের পরিবারের সহায়তায় ওই অর্থ বিতরণের একটি প্রস্তাব দেওয়া হবে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণও তাঁর সভাপতির বক্তব্যে একই ধরনের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমের সমস্যা নয়; বছরজুড়েই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ রোগের কারণে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য ডেঙ্গুর চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে উঠছে। হাসপাতালে রোগীর চাপের কারণে অনেককে বারান্দা, মেঝে কিংবা সিঁড়ির নিচে অবস্থান করেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমন্বিত উদ্যোগ, পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

টিকা ব্যবহারে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ইতিবাচক হলে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি না থাকলে সরকারের টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

একই সঙ্গে অতীতের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট এবং নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের মতো বিষয় উঠে আসে। এসব ঘটনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সেটি ছিল দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর বছর। ওই সময় মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁস পালনের মতো উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিতর্কে বিজয়ী কবি নজরুল সরকারি কলেজ

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে অংশ নেওয়া কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিজয়ী হয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, প্রতীক ইজাজ, মো. মেহেদী হাসান এবং জেনিয়া কবির সূচনা।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় টিকা সংগ্রহের সম্ভাব্য উদ্যোগ, জরিমানার অর্থ জনকল্যাণে ব্যবহারের প্রস্তাব এবং নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে রোগটির প্রতিরোধ ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মত উঠে আসে। তবে টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে থাকবে।

Advertisements