১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

কোলে ল্যাপটপ ও পকেটে মোবাইল রাখার অভ্যাসে প্রজনন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কতটা?

laptop4_20231009_160130053

স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ছাড়া বর্তমান সময়ের দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা কঠিন। পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা বিনোদনের জন্য দীর্ঘ সময় এসব যন্ত্র ব্যবহার করেন অনেকেই। কেউ প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখেন, আবার কেউ সোফায় বসে বা বিছানায় শুয়ে কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করেন। তবে নিয়মিত এসব অভ্যাস পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাপটপের তাপ এবং মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। তবে এসব যন্ত্রের ব্যবহার সরাসরি প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। তা সত্ত্বেও কিছু সতর্কতা মেনে চলা উপকারী হতে পারে।

কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করলে কী হতে পারে?

দীর্ঘ সময় কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করলে যন্ত্রটি থেকে উৎপন্ন তাপের কারণে শরীরের সংস্পর্শে থাকা অংশের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষের আশপাশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অণ্ডকোষের তাপমাত্রা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে শুক্রাণু উৎপাদন ও গুণমানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার করলেই বন্ধ্যত্ব দেখা দেবে, এমনটি বলা যায় না। ল্যাপটপের তাপমাত্রা, ব্যবহারের সময় এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘক্ষণ সরাসরি কোলে ল্যাপটপ না রেখে ডেস্ক বা ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যবহার করা ভালো। এতে শরীরের সঙ্গে সরাসরি তাপের সংস্পর্শ কমবে এবং দীর্ঘ সময় কাজ করাও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে।

Advertisements

প্যান্টের পকেটে মোবাইল রাখলে প্রজনন ক্ষমতা কমে?

স্মার্টফোন প্যান্টের সামনের পকেটে রাখা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। এ কারণে মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা আরএফ তরঙ্গ পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

কিছু গবেষণায় মোবাইল ফোনের রেডিওফ্রিকোয়েন্সির সংস্পর্শের সঙ্গে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সব গবেষণার ফলাফল এক নয়। গবেষণাগুলোর পদ্ধতি, নমুনার আকার এবং ফোন ব্যবহারের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে।

এ কারণে শুধু পকেটে মোবাইল রাখার অভ্যাসের কারণে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো অপর্যাপ্ত। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

তারপরও সতর্ক থাকতে চাইলে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে না রেখে ব্যাগে রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া ফোন পকেটে রাখার অভ্যাস কমানোও একটি সহজ বিকল্প। তবে এসব সতর্কতা মেনে চললেই প্রজনন সমস্যা প্রতিরোধ করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সংগৃহীত

প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যেসব অভ্যাস জরুরি

প্রজনন স্বাস্থ্য শুধু মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সুস্থ থাকতে কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে—

  • ল্যাপটপ ব্যবহারে সতর্কতা: দীর্ঘ সময় কোলে ল্যাপটপ না রেখে ডেস্ক বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করুন।
  • মোবাইল রাখার অভ্যাস পরিবর্তন: সম্ভব হলে ফোন দীর্ঘ সময় শরীরের সঙ্গে লাগিয়ে না রেখে ব্যাগে রাখুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা: নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
  • সুষম খাবার গ্রহণ: প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • ধূমপান পরিহার: ধূমপান শুক্রাণুর গুণমানসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

দীর্ঘদিন ধরে সন্তানধারণের চেষ্টা করেও সফল না হলে বিষয়টিকে শুধু মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারের ফল হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পুরুষ ও নারী—উভয়েরই প্রজননসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণভাবে, নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও ১২ মাসে গর্ভধারণ না হলে উভয়েরই প্রজনন মূল্যায়ন করা উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে ছয় মাস চেষ্টা করার পরই মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিচিত কোনো প্রজনন সমস্যা থাকলে আরও আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

সবশেষে, মোবাইল ফোন পকেটে রাখা বা কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার করলেই প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়—এমন বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেই। তবে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

Advertisements