Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জয় হোক নারীশক্তির

বর্ষাকালের ঘষা কাচের আকাশের মতো দেশের আকাশও এখন ঘোলাটে। কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায়, কেউ তা জানে না। তবে অনেকেই মনে করেন, সবই চলছে চিত্রনাট্য অনুযায়ী। সুতরাং এখানে টুইস্ট থাকবে, থ্রিল থাকবে, রহস্য থাকবে। এমনকী প্রয়োজনে মাঝপথেও পরিবর্তন ঘটানো হতে পারে চিত্রনাট্যের বাকি অংশ। বিষয়টি জটিল এবং ধাঁধাল। আমরা বরং সহজ বিষয় নিয়েই কথা বলি। অনন্যার এবারের বিষয় শারদীয় উৎসব। শৈশবে আমরা দেখেছি, শরৎ এলেই আকাশজুড়ে ভেসে বেড়াত পেঁজাতুলা শুভ্র মেঘের ভেলা। বাতাসে পাওয়া যেত শরতের ঘ্রাণ। বাংলার নদী-খাল-বিল-জুড়ে মেতে উঠত কাশফুলের শুভ্র দোলুনি। এখনো নিশ্চয়ই মলয় বাতাসে নদীর পাড়ে দোলা খায় কাশফুলের ঝাঁক। শহরের যান্ত্রিকতা যেসব জায়গা এখনো পুরোপুরি গ্রাস করেনি, সেখানকার আকাশ নিশ্চয়ই এখনো বলে দেয় শরৎ এসেছে। সেই সঙ্গে এসেছে বাঙালি হিন্দুসম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।


দুর্গা-এই নামটি শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা দেবীমূর্তিÑযার দশহাতে দশরকম অস্ত্র। দেবীর একপা সিংহের পিঠে, একপা অসুরের কাঁধে। তাকে ঘিরে থাকেন গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী আর কার্তিক। হিন্দু শাস্ত্রানুসারে ‘দুর্গা’ শব্দটিকে ভাঙলে পাওয়া যায়- ‘দ’-এ দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘœনাশক,  ‘রেফ’ রোগনাশক, ‘গ’-এ পাপনাশক ও অ-কার-এ ভয় তথা শত্রুনাশক। অর্থাৎ, দৈত্য, বিঘœ, রোগ, পাপ ও ভয় তথা শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা। এটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা যে, এসব অশুভ শক্তির রোষানল থেকে এ জগৎ উদ্ধার পায় একজন নারী মাধ্যমেই। নারীশক্তির এক অপূর্ব প্রকাশ ঘটে দেবীদুর্গার মধ্যে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানা যায়, মাতৃরূপে দেবী সংস্কৃতির ধারণা অতি প্রাচীন। প্রায় ২২ হাজার বছর পূর্বে ভারতে প্যালিওলিথিক জনগোষ্ঠী থেকেই দেবী পূজা প্রচলিত শুরু হয়েছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা তথা সিন্ধু সভ্যতায় এসে তা আরও বিস্তৃত হয়। মাতৃপ্রধান পরিবারের মা-ই প্রধান শক্তি, তাঁর নেতৃত্বে সংসার পরিচালিত হয়, তাঁর নেতৃত্বে শত্রু নাশ হয়, আর তাই মাকে সামনে রেখে দেবী বিশ্বাসে গড়ে ওঠে। এই মত অনুসারে দেবী হলেন, শক্তির রূপ।

আমাদের এই জনপদে বহুযুগ ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে, সব ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই হচ্ছে আমাদের অঞ্চলের চিরায়ত ঐতিহ্য। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যও একটি দেশের বড় সম্পদ। অনন্যা সেই বৈচিত্র্যকে সম্মান করে। 
জয় হোক নারীশক্তির। সবাইকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা।