ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। এতে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১ জনে। আর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

অক্টোবরে দুই সপ্তাহেই ৮৬ মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে এ রোগে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন মারা যান। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।
মাসভিত্তিক এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমের পরও ডেঙ্গুর কারণে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জনে। তবে একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম উপায়
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশার বংশবিস্তার রোধ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



