১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

বিশাল তিমির পেটে আটকে মানুষ, বাঁচার লড়াইয়ে জমবে ‘Whalefall’

IMG_6194

বাবার মৃত্যুর পর তার দেহাবশেষ খুঁজতে সমুদ্রে ডুব দেন জে গার্ডিনার। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় সমুদ্রে সেই অনুসন্ধানই তাকে ঠেলে দেয় ভয়াবহ বিপদের মুখে। বিশাল এক স্পার্ম হোয়েল বা শুক্রাণু তিমির পেটে চলে যান তিনি। এরপর হাতে সময় মাত্র একটাই—অক্সিজেন শেষ হওয়ার আগেই তিমির পেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এমনই শ্বাসরুদ্ধকর গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে হলিউডের সারভাইভাল থ্রিলার সিনেমা ‘Whalefall’।

পরিচালক ব্রায়ান ডাফিল্ডের এই সিনেমায় জে গার্ডিনার চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্টিন আব্রামস। তার বাবার চরিত্রে রয়েছেন জশ ব্রোলিন। ড্যানিয়েল ক্রাউসের একই নামের বেস্টসেলার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে বেঁচে থাকার রোমাঞ্চের পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে বাবা-ছেলের জটিল সম্পর্ক এবং হারানো আবেগের গল্প।

সিনেমার কাহিনি এগিয়েছে দুটি সময়কে কেন্দ্র করে। বর্তমান সময়ে বাবার মৃত্যুর পর বাড়িতে ফিরে আসেন জে। অন্যদিকে, অতীতের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে তার সঙ্গে বাবার টানাপোড়েনের সম্পর্কের চিত্র। জের বাবা মিট গার্ডিনার ছিলেন একরোখা ও কঠোর স্বভাবের মানুষ। প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার নেশায় মগ্ন এই বাবা নিজের ছেলের অনুভূতি বুঝতে ব্যর্থ হন। ছেলের সামান্য দুর্বলতা নিয়েও নিয়মিত কটাক্ষ করতেন তিনি। বাবার কাছ থেকে স্বীকৃতি ও ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও জের জীবনে জমতে থাকে হতাশা ও অভিমান।

বাবার মৃত্যুর পর এক সকালে অক্সিজেনের ট্যাংক নিয়ে সমুদ্রে ডুব দেন জে। উদ্দেশ্য, বাবার শেষ আশ্রয়স্থলে গিয়ে নিজের মতো করে বিদায় জানানো। কিন্তু সমুদ্রের গভীরে গিয়ে বিশাল এক সামুদ্রিক প্রাণীর মুখোমুখি হন তিনি। এরপরই ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। একটি বিশাল স্পার্ম হোয়েল তাকে গিলে ফেলে। তিমির শরীরের ভেতরে আটকা পড়ে জে শুরু করেন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। অক্সিজেনের সীমিত সরবরাহ, দুর্গম পরিবেশ এবং শরীরের ভেতরের বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে তাকে খুঁজে বের করতে হয় মুক্তির পথ।

সিনেমাটির বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দর্শকদের জের প্রতি আবেগগতভাবে যুক্ত রাখা। কারণ, গল্পের বড় একটি অংশেই তাকে তিমির শরীরের ভেতরে একা লড়াই করতে হয়। তবে অস্টিন আব্রামসের অভিনয় এই চ্যালেঞ্জকে অনেকটাই সফল করেছে। চরিত্রটির নিঃসঙ্গতা, চাপা কষ্ট, ভয় এবং বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তিনি পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। নিজের সঙ্গে কথা বলার দৃশ্যগুলোও তার অভিনয়ে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, যা দর্শকদের কাছে জের অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তব করে তোলে।

অন্যদিকে, জশ ব্রোলিনের অভিনয়েও উঠে এসেছে একজন কঠোর বাবার জটিল ব্যক্তিত্ব। বাবা ও ছেলের মধ্যকার দৃশ্যগুলোতে রয়েছে চাপা ক্ষোভ, মানসিক দূরত্ব এবং স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ফলে সিনেমাটি কেবল তিমির পেটে আটকে পড়া একজন মানুষের বেঁচে থাকার গল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং পারিবারিক সম্পর্কের গভীর ক্ষতও তুলে ধরেছে।

Advertisements

পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্রায়ান ডাফিল্ডের বড় শক্তি সিনেমাটির দৃশ্যায়ন। শোকের আবহ বোঝাতে মলিন রঙের ব্যবহার এবং অতীতের স্মৃতিচারণে উজ্জ্বল দৃশ্যের বিপরীতে তিমির শরীরের ভেতরের জগৎ তৈরি করা হয়েছে ভিন্ন রঙ ও আলোয়। তিমির পেটের ভেতরের মাংসপেশির স্পন্দন, দেয়ালের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোর ঝলক এবং পিচ্ছিল তরলে ভরা বিভিন্ন অংশ দর্শকদের সামনে এক ভয়াবহ অথচ দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ তৈরি করে। কোথাও দৃশ্যগুলো বীভৎস, কোথাও আবার অদ্ভুত সুন্দর। সব মিলিয়ে সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দর্শকদের অস্বস্তি ও বিস্ময়—দুই অনুভূতির মুখোমুখি করে।

জের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে রয়েছে হাড়ভাঙা কষ্ট, টানটান উত্তেজনা এবং এমন কিছু মুহূর্ত, যা দেখা দর্শকদের জন্যও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। মাঝেমধ্যে দৃশ্যের অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়া যেন সেই চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি দেয়। গল্পের শেষ ভাগে একটি বড় পরিবর্তনও এসেছে, যা কারও কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হতে পারে। তবে জের মৃত্যুভয়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

‘Whalefall’-এর মূল আকর্ষণ শুধু একজন মানুষের বিশাল তিমির পেটে আটকে পড়ার অদ্ভুত পরিস্থিতি নয়। বরং মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের অতীত, সম্পর্ক ও আবেগের সঙ্গে লড়াই করার গল্পও এতে উঠে এসেছে। রোমাঞ্চ, বীভৎস দৃশ্য এবং আবেগের সমন্বয়ে সিনেমাটি প্রচলিত সারভাইভাল থ্রিলারের চেয়ে কিছুটা আলাদা অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

Advertisements