১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

২০২৩ সালের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার কম: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

0953d348fd457d8a9e7fce6aa80f1872-6acf3a922ec54

চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তবে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগী যাতে চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আইসিইউ শয্যা বাড়ানো এবং হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম রয়েছে। তবে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জনে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। ওই বছর মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর মোট সংখ্যা ২০২৩ সালের পূর্ণ বছরের তুলনায় কম। তবে বছর শেষ হতে এখনো সময় বাকি থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি ও রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সরকারের লক্ষ্য হলো, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরা যেন সময়মতো হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান এবং শয্যা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন।

Advertisements

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের ভয়াবহ বছরের তুলনায় কম থাকলেও রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

Advertisements