শাহজালালে ৬২ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত সৌদি আরবগামী ও ট্রানজিটের মোট ৬২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সৌদি আরবগামী যাত্রী ও তাঁদের স্বজনেরা।
সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার বিমানবন্দরে আসছেন যাত্রীরা। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছে ফ্লাইট বাতিলের খবর জানতে পেরে বিপাকে পড়ছেন অনেকে। যাত্রীদের অভিযোগ, আগে থেকে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানানো হলে তাঁদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।
বাতিল হয়েছে যেসব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সৌদিয়ার ৫টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালামের ৩টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
যাত্রীদের সহায়তায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা
পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে এয়ারলাইনসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইটের বিলম্ব, বাতিল কিংবা সময়সূচি পরিবর্তনের তথ্য এসএমএস, ফোনকল, ই-মেইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে যাত্রীদের জানাতে হবে। পাশাপাশি পরিবর্তিত যাত্রার সময়, পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।
খাবার-পানিসহ নিশ্চিত করতে হবে প্রয়োজনীয় সুবিধা
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, নাশতা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।
ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে যাত্রীদের সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় সৌদি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগেও সহযোগিতা করতে হবে।
এ ছাড়া ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি এয়ারলাইনসকে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
যাত্রীদের অসহায় অবস্থায় না রাখার নির্দেশ
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের কারণে কোনো যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। প্রত্যেকের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে এবং ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



