১৩ অক্টোবর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ১০ হাজার বিজিবি সদস্য

490d930bd97b50c97f0f1a8368eef82c-6acdb39d381a3

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রায় ১০ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত টহল এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত এবং ব্যাটালিয়ন সদরের কাছাকাছি এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে পূজার সময় এসব মণ্ডপে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করবে বাহিনীটি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, দুর্গাপূজা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে।

ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সমন্বিত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের পরিবেশ বজায় রাখতে চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Advertisements
Advertisements