আন্দোলনকারীদের দেশবি’রোধী আখ্যা কঙ্গনার, দেখছেন অস্থি’তিশীল করার ষ’ড়যন্ত্র

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত। বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের আড়ালে ভারতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কঙ্গনা রানাউত। তাঁর দাবি, বিক্ষোভের পেছনে এমন কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। তবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কঙ্গনা। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের মানুষ এখন এসব শক্তিকে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করছে। পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাদের ধরে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান এই বিজেপি সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পক্ষ কাজ করছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ যেন অযথা ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অযোধ্যা যাওয়ার পথে মন্তব্য
লখনৌ পৌঁছে অযোধ্যার উদ্দেশে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কঙ্গনা। তিনি জানান, রামলালার দর্শন ও প্রার্থনার জন্য অযোধ্যার রামমন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। কঙ্গনা হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।
নির্বাচন কমিশন ঘিরে বিক্ষোভ
এদিকে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় অনেক ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই দলটির শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
দিল্লিতে ব্যাপক আটক, মোতায়েন হাজারো নিরাপত্তাকর্মী
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন দিল্লিজুড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। অন্য একটি হিসাবে আটকের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। পরে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের পাশাপাশি চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা এবং আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা ভোটাধিকার ও নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে কঙ্গনা রানাউত বিক্ষোভের পেছনে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র দেখছেন।



