ব্রাশ না করেই খাবার খাচ্ছেন? দাঁত ও মাড়ির জন্য কতটা ঝুঁকি

সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই তাড়াহুড়ার কারণে দাঁত না মেজেই নাশতা করে ফেলেন। একদিন এমন হলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না। তবে নিয়মিত দাঁত না মেজে খাওয়ার অভ্যাস দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাড়তে পারে দাঁতে প্লাক জমা, মাড়িতে প্রদাহ এবং মুখে দুর্গন্ধের ঝুঁকি।
ঘুমের সময় মুখে লালা উৎপাদন কমে যায়। লালা খাবারের ক্ষুদ্র কণা পরিষ্কার করতে, মুখের অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে এবং দাঁতের এনামেল সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। রাতে লালার পরিমাণ কমে যাওয়ায় মুখের ব্যাকটেরিয়ার কার্যকলাপ ও পরিবেশে পরিবর্তন ঘটে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে দুর্গন্ধ বা অস্বস্তিকর স্বাদ অনুভূত হতে পারে।
দাঁত না মেজে নাশতা করলে যে ৩টি সমস্যা হতে পারে
১. দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে
সকালের নাশতায় সাধারণত চিনি ও শ্বেতসারযুক্ত খাবার থাকে। যেমন—মিষ্টি চা, বিস্কুট, রুটি ও পরোটা। মুখের ব্যাকটেরিয়া এসব খাবারের কার্বোহাইড্রেট ব্যবহার করে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেলের খনিজ উপাদান ক্ষয় করতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দাঁতে গর্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
দাঁতের গায়ে জমে থাকা আঠালো স্তর, যাকে প্লাক বলা হয়, ব্যাকটেরিয়ার আবাসস্থল। নিয়মিত ব্রাশ না করলে এই স্তর জমতে থাকে এবং দাঁতের ক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
তবে একদিন দাঁত না মেজে নাশতা করলেই দাঁতে গর্ত হবে, এমন নয়। খাদ্যাভ্যাস, ফ্লোরাইডের ব্যবহার, লালার পরিমাণ এবং সামগ্রিক মুখের পরিচ্ছন্নতার ওপরও দাঁতের স্বাস্থ্য নির্ভর করে।
২. মাড়িতে প্রদাহ ও রক্তপাত হতে পারে
দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে প্লাক জমে থাকলে মাড়িতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এর ফলে মাড়ি লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া কিংবা ব্রাশ করার সময় রক্তপাতের মতো সমস্যা হতে পারে।
দীর্ঘ সময় প্লাক জমে থাকলে তা শক্ত হয়ে টারটারে পরিণত হতে পারে। সাধারণ ব্রাশ দিয়ে এই শক্ত স্তর সম্পূর্ণ দূর করা যায় না। এ ক্ষেত্রে দন্তচিকিৎসকের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে।
নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা এবং দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্লাক নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
৩. মুখের দুর্গন্ধ থেকে যেতে পারে
ঘুমের সময় জিহ্বা ও দাঁতের চারপাশে থাকা ব্যাকটেরিয়া দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী যৌগ তৈরি করতে পারে। এ কারণে সকালে মুখে দুর্গন্ধ অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক।
দাঁত না মাজলে এবং জিহ্বা পরিষ্কার না করলে এই দুর্গন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। শুধু নাশতা খেলে মুখের ব্যাকটেরিয়ার স্তর পুরোপুরি দূর হয় না। তাই নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা জরুরি।
সকালের নাশতার আগে, নাকি পরে দাঁত মাজবেন?
সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। সাধারণভাবে, সকালের নাশতার আগে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা একটি ভালো অভ্যাস। এতে রাতের জমে থাকা প্লাক পরিষ্কার হয় এবং দাঁতের গায়ে ফ্লোরাইডের একটি সুরক্ষামূলক স্তর থাকে, যা এনামেলকে অ্যাসিডের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
নাশতার পরে ব্রাশ করতে চাইলে খাওয়ার পরপরই ব্রাশ না করাই ভালো, বিশেষ করে কমলার রস, লেবু বা অন্য অম্লীয় খাবার খেলে। অ্যাসিডের কারণে সাময়িকভাবে নরম হয়ে যাওয়া এনামেল ব্রাশের ঘর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো।
দাঁত সুস্থ রাখতে যা করবেন
- দিনে দুইবার ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে প্রায় দুই মিনিট দাঁত ব্রাশ করুন।
- দাঁতের পাশাপাশি জিহ্বাও নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
- প্রতিদিন দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করতে ফ্লস বা উপযুক্ত ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ ব্যবহার করুন।
- অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ সীমিত রাখুন।
- নিয়মিত দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখতে হবে, একদিন দাঁত না মেজে নাশতা করলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিদিন সকালে দাঁত পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলা দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ ও মুখের দুর্গন্ধের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।



