৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শুরুতেই হোঁচট, বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

1791460575526-0d97dd4049e4aa6f0221a9a6d6ed7d84

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার পর বোলিংয়েও স্বাগতিকদের চাপে ফেলতে পারেনি টাইগ্রেসরা। ফলে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হার দিয়ে শুরু করতে হলো নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিসবেনে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুতেই ছন্দ হারায় দলটি। প্রথম বলেই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে টাইগ্রেসরা। ওপেনার ফারজানা হক কোনো রান করার আগেই সাজঘরে ফেরেন। অন্য ওপেনার শারমিন সুলতানাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪ রান। শারমিন আক্তার করেন ২৪ রান।

শুরুর এই ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু সতীর্থদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি তিনি। সোবহানা মোস্তারি ১৭ বলে মাত্র ২ রান করে আউট হলে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। জ্যোতির ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। স্বর্ণা আউট হওয়ার আগে করেন ২১ রান।

একপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও লড়াই চালিয়ে যান রিতুমনি। তাঁর ব্যাট থেকেই আসে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৫ রান। তবে অন্যদের কাছ থেকে বড় ইনিংস না আসায় দলীয় সংগ্রহ প্রত্যাশামতো বাড়েনি। শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভার ৪ বলে ১৬৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। তিনি একাই তুলে নেন চারটি উইকেট। জয়ের জন্য ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও শুরুতে একটি উইকেট হারায়। ওপেনার জর্জিয়া ভোল ১৮ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান। তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ করে দেন ফোবে ফিচফিল্ড ও তাঁর সঙ্গী।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দ্রুত অর্ধশতক পূর্ণ করেন ফিচফিল্ড। শেষ পর্যন্ত ৫৭ বলে ৭৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়েই জয়ের পথ অনেকটা সহজ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য। পরে বেথ মুনি ১২ বলে ১৩ রান করে ফিরলেও ম্যাচে আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি এলিস পেরি ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটের জন্য আর কোনো সুযোগ না দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন পেরি ও সাদারল্যান্ড। পেরি ২৬ এবং সাদারল্যান্ড ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৪৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া, যা ম্যাচে দুই দলের পারফরম্যান্সের ব্যবধান স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বাংলাদেশের হয়ে হাবিবা ইসলাম দুটি এবং রাবেয়া খান একটি উইকেট নেন। তবে বোলারদের জন্য লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি করতে প্রয়োজনীয় বড় পুঁজি গড়তে পারেনি ব্যাটিং বিভাগ।

Advertisements

প্রথম ম্যাচের এই হার নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য হতাশার। সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে হলে পরের ম্যাচগুলোতে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা, জুটিতে রান তোলা এবং বোলিংয়ে আরও ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে টাইগ্রেসদের। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে এখন সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় বাংলাদেশের সমর্থকেরা।

Advertisements